গোপালপুরে মা জগদ্ধাত্রী প্রথম পা রেখেছিলেন ১৯৭২ সালে। চার বন্ধু- সুকুমার অধিকারী , বাদল মণ্ডল , রবীন্দ্রনাথ মন্ডল এবং ভৈরব গঁড়াই মিলে শুরু করেছিলেন পুজো। চারজনই তখন সদ্য চাকরি পেয়েছিলেন। পাড়ায় সেসময় কোনও পুজোর আয়োজন করা হত না। তখন তারা ঠিক করেন, স্থানীয় এলাকায় কোনও পুজোর করতে হবে। প্রথমে প্রস্তাব আসে সরস্বতী পুজো করার। এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুকুমার অধিকারী। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মন্ডল প্রস্তাব দেন, এমন পুজো করতে হবে, যা এলাকায় একদম নতুন হবে। সেই মতো জগদ্ধাত্রী পুজো করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে সহমত হন চার বন্ধুই। তারপর ১৯৭২ সালে গোপালপুরে শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagadhatri Puja 2021) ।
advertisement
পুজোর উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম সুকুমার অধিকারী বর্তমানে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি তার পিতার কর্মসূত্রে আগে কৃষ্ণনগরে থাকতেন। তাই কৃষ্ণনগরের ধাঁচে তৈরি হয় প্রতিমা। সপ্তমীর দিনেই নিয়ে আসা হয় প্রতিমা। তৈরি হয় জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagadhatri Puja 2021) কমিটি। নাম দেওয়া হয় গোপালপুর জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে এই পুজো চলতি বছরে পা দিল ৫০ বছরে। মাত্র ৪৫০ টাকায় আয়োজিত এই পুজোর বাজেট এখন লক্ষাধিক। চারজনের তৈরি পুজো কমিটি এখন এলাকার অন্যতম পুজো কমিটি। প্রতিবছর জাঁকজমকের সঙ্গে আয়োজন করা হয় পুজোর।
গোপালপুর জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির উদ্যোগে হওয়া এই পুজো এলাকার মানুষের কাছে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই এলাকায় দুর্গাপুজোর থেকেও জগদ্ধাত্রী পুজোয় উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে। যে যেখানেই থাকুন না কেন, পাড়ার বিবাহিত মেয়েরা এই সময় ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। যারা কর্মসুত্রে বাইরে থাকেন, তারাও জগধ্বাত্রী পুজো উপলক্ষে বাড়ি ফিরে আসেন। দুর্গাপুজোর সময় না আসতে পারলেও, তারা আসেন জগধ্বাত্রী পুজোতে। এটাই পঞ্চাশ বছরের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে এখানে।
নবমীর দিন সপ্তমী , অষ্টমী এবং নবমীর পুজো হয় গোপালপুর জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির আয়োজিত পুজোয়। বাড়ির বয়স্ক মহিলাদের নির্দেশ মেনে প্রতিমার নিরঞ্জন হয় দ্বাদশীর দিন। প্রথম বছর থেকে নরনারায়ণ সেবা প্রথা চালু ছিল এখানে। যদিও বর্তমানে আর্থিক কারনে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পুজোর জন্য কারও কাছে কোনওরকম চাঁদা নেওয়া হয় না। স্বেচ্ছায় কেউ দিলে তা গ্রহণ করা হয়। চার বন্ধু মিলে শুরু করা পুজো আজ পাড়ার একমাত্র পুজো। যাকে ঘিরে গোটা এলাকা মেতে ওঠে দেবীর আরাধনায়।






