সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা, সংসার এবং কাজের ব্যস্ততায় খেলাধুলা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান জয়দেব। জীবনের বাস্তব দায়িত্বই হয়ে ওঠে তার প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও খেলাধুলার প্রতি টান রয়ে গিয়েছিল। অনেক বছর পরে সেই আগ্রহ আবার নতুন করে জেগে ওঠে এক বিশেষ কারণে। নিজের ছেলের খেলাধুলা দেখেই তিনি আবার মাঠের দিকে ফিরে আসার সাহস পান।
advertisement
ছেলের অনুশীলন দেখতে গিয়েই তার মনে হয়, তিনি নিজেও আবার খেলাধুলা শুরু করতে পারেন। তখন তার বয়স ৪৬ বছর। অনেকেই ভেবেছিলেন এই বয়সে নতুন করে শুরু করা সম্ভব নয়। কিন্তু জয়দেব সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। প্রশিক্ষক রঞ্জিত বাবুর কাছে তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হয় তার নতুন যাত্রা। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মাঠে নেমে কঠোর অনুশীলন করতে থাকেন তিনি।
অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন খেলায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে শুরু করেন জয়দেব গারু। লং জাম্প, হাই জাম্প, ট্রিপল জাম্প, ১০০ মিটার দৌড় এবং ২০০ মিটার দৌড়—সব ক্ষেত্রেই তিনি ভালো পারফরম্যান্স করেন। এরপর তিনি রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন এবং প্রথম স্থান অধিকার করেন।
রাজ্যস্তরে সাফল্যের পর তার সামনে খুলে যায় জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার দরজা। এরপর চেন্নাই, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং জব্বলপুরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। প্রতিটি মঞ্চেই নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগীদের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেও তিনি সাফল্য অর্জন করেন।
বর্তমানে জয়দেব গারুর লক্ষ্য আরও বড়। তিনি চান একদিন দেশের হয়ে খেলতে এবং নিজের জেলার নাম উজ্জ্বল করতে। তার এই সাফল্যের গল্প আজ অনেকের কাছে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন দেখার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। সত্যিই যদি ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রম থাকে, তবে যেকোনও বয়সেই নতুন করে পথচলা শুরু করা যায়।





