স্কুল জীবন থেকেই ফুটবলের সঙ্গে হাতেখড়ি সন্তুর। বাবা ও দাদাদের অনুপ্রেরণায় প্রথমে পাড়ার মাঠে খেলতে নামা, তারপর ধীরে ধীরে বিদ্যালয় স্তরের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ। প্রতিভার জোরে ব্লক ও জেলা স্তর পেরিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন দলের হয়েও খেলেছেন তিনি। গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে খেলার সুযোগ পেয়েছেন সন্তু, যা তাঁর জীবনের অন্যতম গর্বের অধ্যায়।
advertisement
খেলোয়াড়ি জীবনের পর মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি সন্তু। বরং খেলার সঠিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেই এগিয়ে আসেন খেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে। উপযুক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি ফুটবল রেফারির কাজ করছেন। কখনও প্রধান রেফারি, কখনও লাইন্সম্যান হিসেবে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন সন্তু মণ্ডল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত এবং নিয়মের প্রতি কঠোরতা—এই গুণগুলির জন্য খেলোয়াড় ও আয়োজকদের কাছেও তিনি সমানভাবে সম্মানিত।
পুলিশের সঙ্গে যুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সময় বের করে ফুটবল মাঠে ছুটে যান সন্তু। ডিউটির চাপ, সংসারের দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যেও খেলার প্রতি টান তাঁকে মাঠে ফিরিয়ে আনে বারবার। সন্তু মণ্ডলের এই যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছা আর নিষ্ঠা থাকলে গ্রাম থেকেই উঠে আসতে পারে মাঠের যোগ্য বিচারক। তাঁর গল্প আজকের প্রজন্মের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার।





