পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার মেয়ে অভিজ্ঞা সাউ। এগরা সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় নিজেকে গড়ে তুলতে ব্যস্ত এই কিশোরী। পরিবারের সমর্থন ও নিজের ইচ্ছাশক্তি তাকে প্রতিদিন নতুন করে অনুপ্রেরণা দেয়। ছোট থেকেই তার মনে একটাই ইচ্ছে—একদিন সে দেশের হয়ে বড় মঞ্চে খেলবে।
মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। তখন থেকেই বিভিন্ন খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় হয় অভিজ্ঞার। প্রথম দিকে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার, লং জাম্পে মহাকুমা ও জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করত সে। ছোট্ট বয়স হলেও তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মত।
advertisement
ধীরে ধীরে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করায় প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠকদের নজরেও আসে সে। তার অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেই মুগ্ধ হন। পরিবারের সদস্যরাও তাকে সবসময় উৎসাহ দেন। খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।
জেলা ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার পর তার সামনে খুলে যায় আরও বড় সুযোগ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সে। সেই লক্ষ্যেই বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের প্রতিভা প্রমাণ করে অভিজ্ঞা। তার পারফরম্যান্স বিচারকদের নজর কাড়ে। এত অল্প বয়সে তার আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা অনেককেই অবাক করে। ধীরে ধীরে সে নিজের জায়গা তৈরি করছে ক্রীড়া জগতে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ নয়। তবুও অভিজ্ঞা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে নিয়ম করে কঠোর অনুশীলন করে সে। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেই ছুটে যায় মাঠে। কখনও ক্লান্তি তাকে থামাতে পারে না। তার কথায়, পড়াশোনা ও খেলাধুলা একসঙ্গে করতে কিছুটা সমস্যা হয় ঠিকই। কিন্তু জেদ আর স্বপ্ন তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন- ‘পাকিস্তানিদের দলে নেবেন, ওরা টাকা পেয়ে ভারতীয়দেরই মারবে’, সানরাইজার্সকে চাচাছোলা আক্রমণ গাভাসকরের
ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার লক্ষ্য। তার স্বপ্ন একদিন এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকে দেশের হয়ে খেলবে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে এগরার এই কিশোরী।





