সুগারু চ্যানেল ওপেন ওয়াটার সুইমিং দুনিয়ায় ‘নাইটমেয়ার চ্যানেল’ নামেই পরিচিত। অত্যন্ত ঠান্ডা জল, প্রবল স্রোত, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এই চ্যানেলে সাফল্যের হার মাত্র ৩৫ শতাংশ। আরও বড় আতঙ্ক ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা, যার কোনও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায় না। তুলনায় ইংলিশ চ্যানেলে সাফল্যের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় মহিলা এই সুগারু চ্যানেল পার করতে পারেননি। সায়নী ইতিমধ্যেই সুগারু ফেডারেশন থেকে সাঁতারের স্লট পেয়েছেন। আগামী ৩ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে আবহাওয়া অনুকূল হলেই তাঁকে জলে নামতে হবে।
advertisement
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জিব্রাল্টার চ্যানেল পার করার পর জুন পর্যন্ত শেষ অনুশীলন করেছিলেন সায়নী। তারপর প্রায় সাত মাস জল থেকে বাইরে থাকতে হয়েছে। এবার নতুন করে কামব্যাকের প্রস্তুতি শুরু। তবে সেই পথও সহজ নয়। কালনায় উপযুক্ত সুইমিং পুল না থাকায় তাঁকে রিষড়া সুইমিং ক্লাবে শিফট করতে হচ্ছে। সুগারু চ্যানেলে বেশি স্প্রিন্ট সাঁতারের প্রয়োজন হওয়ায় এবছর পুল ট্রেনিংয়ে বিশেষ জোর দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ওপেন ওয়াটার অনুশীলনের জন্য পুরী সমুদ্রে প্র্যাকটিস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু শারীরিক প্রস্তুতিই নয়, মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির কারণে শরীরের ওজন বেড়েছে, একাধিক ছোটখাটো ইনজুরি নতুন করে সামলাতে হচ্ছে। তাই জিম, ফিজিওথেরাপি ও মেডিটেশন আবার নিয়মিত রুটিনে ফিরেছে। সায়নীর কাছে সুগারু মানে শুধু একটি চ্যানেল নয়, নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার লড়াই।
এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন ত্যাগের গল্প। ইংলিশ চ্যানেল পার করার সময় বাবাকে বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। সেই ঋণের বোঝা এখনও পুরোপুরি শোধ হয়নি। বাবা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। সায়নী নিজেও একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন, কিন্তু সাঁতারের জন্য সেই চাকরি ছাড়তে হয়েছে। এখন তাঁর কোনও নিয়মিত রোজগার নেই। ইংলিশ চ্যানেলে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা, ক্যাটালিনায় ১৩–১৪ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকারের যুব দফতর থেকে কিছু সাহায্য মিললেও তা পর্যাপ্ত ছিল না।
জাপানের সুগারু চ্যানেল অভিযানের জন্য মোট বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। এখনও পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে মাত্র ২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বাকি ১৮ লক্ষ টাকা জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এক লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। এছাড়াও কিছু ব্যক্তি ও সংস্থা পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে সায়নী স্পষ্ট জানাচ্ছেন, আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন, বিভিন্ন CSR সংস্থা ও সাধারণ মানুষ যদি সামান্য সাহায্যও করেন, তাহলেই এই অসম্ভব স্বপ্ন সম্ভব হতে পারে। চোখে জল নিয়ে সায়নী বলেন, “আমি এতদূর এসেছি হারার জন্য নয়। সুগারু আমি পার করবই। সেদিন শুধু আমার নয়, আমার নামের পাশে ‘ইন্ডিয়া’ লেখা থাকবে।”





