অথচ দত্তক পুত্র হিসেবে সালমান খান বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সম্মান ও যত্নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সেই মানবিক বার্তাকেই বাস্তব রূপ দিতে জেলা পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখারিয়া-র ভাবনায় এই প্রকল্পের সূচনা। এই প্রকল্পের আওতায় ৬০-৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে একাকী বসবাসকারী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে জেলা পুলিশ প্রশাসন। রাত-বিরেতে অসুস্থতা, ওষুধ আনা, জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য, প্রতিদিন খোঁজখবর নেওয়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি সহ একাধিক পরিষেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে প্রবীণদের রক্ষা করতেও বিশেষ সচেতনতা গড়ে তোলা হবে।
advertisement
আরও পড়ুন: বছর শেষে শোকের ছায়া! মুর্শিদাবাদে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে প্রাণ গেল ছাত্র নেতার! শোকে বিহ্বল পরিবার
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব প্রবীণ একাকী রয়েছেন- সন্তান থাকা সত্ত্বেও কিংবা সন্তান বিদেশে থাকার কারণে যাঁরা একা বসবাস করতে বাধ্য, তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যৌথ পরিবারের বাইরে থাকা এই মানুষদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি দিতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ ফর্মের মাধ্যমে এই পরিষেবার জন্য আবেদন করা যাবে। শুধু পুলিশ প্রশাসন নয়, এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে মধ্যমগ্রাম পৌরসভাও।
আরও পড়ুন: বিচ ফেস্টিভ্যাল থেকে আতশবাজি, জগন্নাথ মন্দিরে বিশেষ আয়োজন! বর্ষ বিদায়-বরণ ঘিরে জমাটি আয়োজন দিঘায়
জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকার একাকী প্রবীণদের সংখ্যা, যোগাযোগ নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার। মধ্যমগ্রাম সুভাষ ময়দানে জেলা পুলিশ প্রশাসনের আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখারিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মধ্যমগ্রামের বিধায়ক ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রাম পৌরসভার পৌরপ্রধান নিমাই ঘোষ সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রথম পর্যায়ে মধ্যমগ্রাম পৌর এলাকায় এই পরিষেবা চালু হলেও, আগামী দিনে অশোকনগর, হাবরা সহ বারাসাত জেলা পুলিশের অন্যান্য বিধানসভা এলাকায় ধাপে ধাপে এই প্রকল্প সম্প্রসারিত করা হবে। ভবিষ্যতে গোটা জেলাজুড়েই বাগবান প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে একাকী প্রবীণদের জীবনে যেমন নিরাপত্তা ও ভরসা বাড়বে, তেমনই সমাজে মানবিক দায়িত্ববোধের বার্তাও আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়বে- এমনটাই আশা প্রশাসনের। এমন উদ্যোগের কথা জানতে পেরে খুশি এলাকার বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও।





