শিশুদের সেই সরল অথচ গভীর ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেন, বইয়ের পাতার ইতিহাসকে বাস্তবে দেখানোর। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই এক সকালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের হাত ধরে পৌঁছে যায় মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারী প্রাসাদের সামনে। বিশাল প্রাসাদের দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের চোখে ছিল বিস্ময় আর মুখে ছিল আনন্দের হাসি। জীবনে এই প্রথম তারা ইতিহাস দেখল কাছে থেকে।তাও আবার শিক্ষকদের সান্নিধ্যে। হাজারদুয়ারী দর্শনের পর শিশুদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেকটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। ঘোড়ার গাড়িতে চেপে তারা পরিদর্শন করে মুর্শিদাবাদের সাতটি ঐতিহাসিক স্থান।
advertisement
ঘোড়ার টগবগ শব্দ, পথের দু’ধারের দৃশ্য আর শিশুদের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। প্রতিটি স্থানে শিক্ষকরা গল্পের মতো করে ইতিহাস বোঝান, আর ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন করতে করতে নিজেদের কৌতূহল মেটায়।এই শিক্ষা সফরের শেষ পর্ব ছিল মতিঝিল পার্ক। সেখানে ইতিহাসের পাঠ বদলে যায় প্রকৃতির পাঠে। সবুজ গাছপালা, জলাশয় আর খোলা আকাশের নিচে শিশুরা নিজেদের উজাড় করে দেয় খেলায়। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে তারা শেখে পরিবেশের গুরুত্ব, শেখে একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, “শিশুদের মনের কথা শোনা খুব জরুরি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
‘মনের কথা ড্রপবক্স’-এ তাদের ইচ্ছা পড়েই আমরা বুঝতে পেরেছি, ওরা কীভাবে শিখতে চায়। তাই ওদের ইচ্ছাকেই আমরা পাঠ্যক্রমের অংশ করেছি।” পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র দীপ মণ্ডল জানায়, “আমি ড্রপবক্সে লিখেছিলাম হাজারদুয়ারী দেখতে চাই। আজ সত্যিই গিয়ে দেখলাম। খুব ভাল লেগেছে।” অপর ছাত্রী বৃষ্টি দাস বলে,“ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ইতিহাস দেখা আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। বইয়ে পড়ার চেয়ে অনেক বেশি বুঝতে পেরেছি।”এই শিক্ষা সফরের বিশেষ দিক ছিল, এর জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে কোনও অর্থ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যোগেই সমস্ত ব্যবস্থা করেন। শিশুদের মুখের হাসিই ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, যখন শিশুদের কথা শোনা হয়, তখন শিক্ষা আর বোঝা থাকে না। তখন শিক্ষা হয়ে ওঠে আনন্দের, অভিজ্ঞতার এবং জীবনের সঙ্গে যুক্ত এক সত্যিকারের পাঠ।





