মকর সংক্রান্তির আগের দিন এবং পরের দিন মিলিয়ে মোট তিন দিনের পৌষ পার্বণের উৎসব। উৎসব তিনদিনের হলেও, প্রস্তুতি হয় প্রায় এক মাস আগে থেকে। নতুন ধানের চাল গুড়ো করে পিঠের উপযুক্ত করা। এই উৎসব পরিবারের মা কাকিমাদের দারুণ কষ্টের। ভোর থেকে ওঠা আবার দুপুরের পর পিঠের ঝুলি নিয়ে উনুনের সামনে বসে পড়া। তবুও এই কষ্টের মধ্যে উৎসবের আনন্দ খুঁজে পায় সপরিবার।
advertisement
কয়েক দশক আগে পর্যন্ত গ্রাম জুড়ে ধানের চাষ হত। বর্তমানে চাষ না থাকলেও বাজার থেকে নতুন ধান ও চাল কিনে পুজোর আয়োজন হয়। সেই সঙ্গে নতুন চাল ভেঙে পিঠে তৈরি হয়। পুরনো রীতি মেনে প্রতি ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজো হয়। একদিকে যেমন পৌষ পার্বণের প্রস্তুতিতে প্রায় একমাস আগে থেকে বড়রা মেতে ওঠেন। সেই সঙ্গে ছোটরাও ঘুড়ি ওড়ানোর এই উৎসবে মেতে উঠে। একসময় ছোটদের মধ্যে মাঞ্জা সুতো তৈরির রেওয়াজ ছিল। সেই রেওয়াজ বন্ধ হলেও কেনা সুতো এবং পছন্দমতো ঘুড়ি কিনতে দোকানে দোকানে উৎসবের কয়েকদিন আগে থেকেই ঢুঁ-মারতে দেখা যায় ছেলেদের।
একদিকে ঘুড়ির উৎসব অন্যদিকে পিঠে পার্বণ। ছোট বড় সকল গ্রামবাসীর একটি আকর্ষণের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ বা মকর সংক্রান্তির উৎসব। এই উৎসব আরও বেশি আনন্দের হয়ে ওঠে গ্রামের পুরনো রীতিতে। ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন হয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই উৎসবে মাটির নতুন বাসনপত্র ব্যবহার হয়ে আসছে আজও। সেই মতোই পৌষ পার্বণের দিন কয়েক আগে থেকেই কুমোররা মাটির বাসন নিয়ে গ্রামে হাজির হন। সে সময় প্রায় প্রতি ঘরে গরু ছিল গৃহপালিত পশু। গরু না থাকলেও অধিকাংশ পরিবার পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে গোবর সংগ্রহ করে আজও ঘরের আনাচ-কানাচ, উঠান সর্বত্র শুদ্ধ করে। নতুন ধান লক্ষ্মী রূপে পুজো হয় ঘরে ঘরে।
পৌষ পার্বণ তিনদিনের উৎসব হলেও কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রামের মানুষ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে উৎসবের জোয়ারে গা ভাসায়।





