কালনা থানার অন্তর্গত কালনা দু’নম্বর ব্লকের বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালা গ্রামে ভূত ছাড়ানোর নামে এক যুবকের উপর যেন একরকম চরম নির্যাতনের ছবি দেখা গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই যুবকের হাত ও পা দড়ি দিয়ে বাঁধা। এরপর তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুনের ছিটে দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও আগুন দেওয়া যেন থামছে না। ঘটনাটি গ্রামের রাস্তায় প্রকাশ্যেই ঘটেছে। ভূত তাড়ানোর নামে এই ‘ঝাড়ফুঁক’ এর কাজ করছিলেন গ্রামেরই এক মহিলা ওঝা। কেন ওই যুবকের উপর এমন আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যুবকের মা জানান, পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হলেও পিণ্ডদান করা হয়নি। সেই কারণেই নাকি তাঁর ছেলেকে ‘ভুতে ধরেছে’। এই ধারণা থেকেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘শুনলে চমকাবেন, SIR-এ মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে’, আইপ্যাকে ইডি-কাণ্ডের মাঝেই বড় অভিযোগ মমতার
যদিও এই ঘটনার বিষয়ে গ্রামবাসীদের অধিকাংশই মুখ খুলতে রাজি হননি। অন্যদিকে ওঝার খোঁজ করা হলে তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। গোটা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাপা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এই প্রসঙ্গে কালনা বিজ্ঞান মঞ্চের সহকারী সভাপতি তাপস কুমার কার্ফা জানান, ভাইরাল ভিডিওটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। কোনও ভাবেই এই ধরনের কুসংস্কার ও নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবেন। প্রথমে প্রশাসন যেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকায়, তারপর ওই এলাকায় গিয়ে কুসংস্কার বিরোধী সচেতনতা শিবির ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আধুনিকতার যুগে দাঁড়িয়েও কুসংস্কারের নামে এমন ঘটনার অভিযোগ সমাজে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।






