আরও পড়ুন– রাশিফল ১৩ নভেম্বর; দেখে নিন কেমন যাবে আজকের দিন
এখানের পাথরের মূর্তির বিশেষত্ব হল, মানবদেহের প্রতিটি হাড়, শিরা-উপশিরা খোদাই করা রয়েছে দেবীমূর্তিতে। কঙ্কালের মতো চেহারা। নাম তাই কঙ্কালেশ্বরী। বর্ধমানের এই মন্দিরের পড়তে পড়তে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস, লোকগাথা। কথিত আছে, ১৩২৩ বঙ্গাব্দে দামোদরের তীর থেকে সাধক কমলানন্দ পরিব্রাজক নামে এক সন্ন্যাসীর স্বপাদেশ পেয়ে দেবীমূর্তি নিয়ে এসে কাঞ্চনগরের এই মন্দিরে তা প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় এখানে কোনও বিগ্রহ ছিল না। সেই পাথরের কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই পুজোর সূচনা। সেই সূত্রেই দেবীর নিত্যপুজো এখানকার রোজকার উপাচার। দেবী এখানে অষ্টভূজা। শিবের নাভি থেকে বেরিয়ে আসা পদ্মে বিরাজমান।
advertisement
আরও পড়ুন– কলকাতায় বিলাসবহুল ‘তাজ তাল কুটির’, ঔপনিবেশিকতার সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন
পুরাতাত্ত্বিকের মতে, এই মূর্তি বৌদ্ধ বা পাল যুগের। ২০০০ বছরের বেশি প্রাচীন এই মূর্তি। অনেকের মতে, বন্যার সময় ভেসে এসে থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এই কঙ্কালেশ্বরী মন্দির। প্রায় সারা বছরই এখানে ভিড় জমান ভক্তরা। আর কালীপুজোর সময় তিল ধারণের জায়গা পর্যন্ত থাকে না। প্রায় কুড়ি হাজার ভক্ত অন্নভোগ গ্রহণ করেন।
সারা বছরই এই মন্দির দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট থাকে। এখানে দশ টাকার কুপনে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ অন্ন ভোগ গ্রহণ করেন। বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট থেকে দশ টাকা ভাড়ায় মন্দিরে আসার জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। অনেকেই মন্দিরে এসে পুজো দেন। এরপর অন্ন ভোগ গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। পুজো উপলক্ষে মেলা বসে মন্দির চত্বরে।
