ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ বছর আগে থেকেই জয়দেব মেলায় কলা বিক্রির এই রীতি চলে আসছে। যদিও এই প্রথার নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কারণ স্পষ্ট নয়, তবে প্রাচীনকালে মেলায় আগত মানুষজন তাঁদের প্রিয়জনদের জন্য উপহার হিসেবে কলা ও পাঁচমিশালি মিষ্টি নিয়ে যেতেন। ধীরে ধীরে সেই সামাজিক রীতিই আজ এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
advertisement
এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইলামবাজার ব্লক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যবসায়ী লরি বোঝাই করে কলা নিয়ে এসেছেন জয়দেব মেলায়। প্রতিটি লরিতে বিপুল পরিমাণ কলা আনা হয়। বিক্রেতাদের দাবি, মেলা শেষ হওয়ার আগেই সমস্ত কলা বিক্রি হয়ে যায়। তাঁদের কথায়, “জয়দেব মেলার কলা আর ফেরত যায় না, সবটাই বিক্রি হয়ে যায়।”
ইলামবাজারের বিডিও অনির্বান মজুমদার জানান, নির্দিষ্ট হিসেব না থাকলেও প্রতিবছর বহু ব্যবসায়ী কলা নিয়ে মেলায় আসেন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষজন এই কলা কিনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠান, সঙ্গে মিষ্টিও পাঠানো হয়। বহুদিন ধরেই এই রীতিই জয়দেব মেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে রয়েছে।
গবেষক অনাদি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর সময়কাল থেকেই প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে এই কলা ও পাঁচমিশালি মিষ্টি পাঠানোর প্রথা চালু ছিল। তাঁর কথায়, জয়দেব মেলা হিন্দু-মুসলমানের মিলনক্ষেত্র। একসময় কলা পাঠানো ছিল সামাজিক সম্মানের বিষয়। সেই সামাজিক ঐতিহ্য আজও জয়দেব মেলাকে আলাদা করে চেনায়।





