জঙ্গলমহলের মেয়েরা দল বেঁধে টুসু গান গেয়ে বাড়ি বাড়ি কিংবা হাটে হাটে ঘুরে বেড়ান। এই লোকসংগীতের সুরে ধরা পড়ে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও সামাজিক ভাবনার ছবি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই গান আজও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত করে রেখেছে। টুসু পরব মূলত লৌকিক পরব। অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হয় এবং শেষ হয় পৌষ সংক্রান্তির দিন। টুসু মূলত লৌকিক দেবী। যাকে জঙ্গলমহল এলাকায় মেয়ে হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। অগ্রহায়ণ মাসের শেষের আগের দিন টুসুকে থালায় বসিয়ে বাড়িতে বাড়িতে গান গেয়ে চাল, টাকা সংগ্রহ করেন কুমারী মেয়েরা। তবে মকর সংক্রান্তির দিন টুসুকে পুজো করে গান গেয়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্নান সেরে নতুন জামা কাপড় পড়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েরা।
advertisement
উৎসবের আগে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে বেজায় রমরমা চোখে পড়ছে। পিঠে-পুলি তৈরির জন্য মাটির হাঁড়ি, সরা, কড়াই-সহ নানা সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি দেদার বিক্রি হচ্ছে টুসু মূর্তি। হাটে টুসুর দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা থেকে, আবার আকার ও সাজসজ্জা অনুযায়ী দাম পৌঁছচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। মূলত অগ্রহায়ণ মাস থেকেই জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকার কারিগররা মাটির টুসুর কাঠামো তৈরি করতে শুরু করেন। পরে হাটে এনে রঙিন কাগজ, ঝালর, কাপড় ও অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হয় টুসু।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
উৎসবের সময় এই মূর্তিগুলির চাহিদা তুঙ্গে থাকে, যা গ্রামীণ শিল্পীদের আয়ের অন্যতম উৎস। সব মিলিয়ে, মকর পরবকে কেন্দ্র করে টুসু উৎসব জঙ্গলমহলের লোকসংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই উৎসব আজও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরছে।





