প্রায় চার দশক আগে এই মন্দিরের সূচনা। জানা যায়, মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সমীর মণ্ডল প্রথমে দিঘায় বেড়াতে এসে এক ব্যক্তিকে ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসে ভিক্ষা করতে দেখেন। সেই সময়ই তাঁর মনে হয়েছিল ঐ ব্যক্তির জন্য কিছু করার। তাই তিনি প্রথমে দু’টি অ্যাসবেস্টরের চালা ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। সেই সময় তিনি সমুদ্রের মধ্যে ভেসে আসতে দেখতে পান জগন্নাথ এবং বলরাম দেবকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেসে আসে সুভদ্রা। সেই ঘরের ভেতরেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জগন্নাথ ও বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি।
advertisement
আরও পড়ুনঃ হাতে সময় নেই…! কিছুক্ষণেই কলকাতা-সহ ৬ জেলায় তুমুল ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডব, চরম আশঙ্কার কথা শোনাল হাওয়া অফিস
আরও পড়ুনঃ হাতের অনামিকার মাপ, আকারই চিনিয়ে দেয় কে কেমন মানুষ! মিলিয়ে দেখুন ‘এই’ সহজ উপায়ে, চমকাবেন আপনিও
এই মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে রয়েছে নাটকীয়তাও। এক সময় তিন দেব-দেবীর মূর্তিই চুরি হয়ে যায়। তবে স্থানীয় মানুষজন ও কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেই মূর্তি উদ্ধার হয়। তখন থেকেই ভক্তদের ভরসার কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই মন্দির। বর্তমানে অ্যাসবেস্টরের চালা বদলে এখানে গড়ে উঠেছে পাকা কংক্রিট নির্মিত মন্দির, যা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে স্থানটিকে। মন্দির প্রাঙ্গণে গেলে চোখে পড়ে একেবারে শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ। পর্যটকরা জানান, দিঘার কোলাহল থেকে সরে এসে এখানে কয়েক মুহূর্ত কাটালে মন যেন অন্য রকম প্রশান্তি খুঁজে পায়। সমুদ্রের গর্জন, চারপাশের নিরবতা আর দেবমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, সব মিলিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে এলে ভ্রমণের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
দিঘায় ভ্রমণ মানেই সমুদ্রস্নান, সি ফুড আর পর্যটনকেন্দ্র। তবে যারা ভিড় থেকে একটু দূরে সরে শান্তির খোঁজে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য ওল্ড দিঘার জগন্নাথ মন্দির এক অসাধারণ জায়গা। চার দশকের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই মন্দির শুধু ভক্তদের জন্য নয়, পর্যটকদের কাছেও হয়ে উঠেছে মানসিক শান্তির আশ্রয়স্থল।





