পূর্ব বর্ধমান জেলার পোলেমপুরের বাসিন্দা উত্তম ঘোষ। বছর ২৫ আগে নিজের এই বাড়ি তৈরি করেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সামনের রাস্তার উচ্চতা বেড়েছে। ফলে বর্তমানে রাস্তার সঙ্গে বাড়ির উচ্চতা সমান হয়ে যাওয়ায় বাড়ির নিকাশি ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এমনকি বর্ষায় মাঝেমধ্যে জলও ঢুকত বাড়িতে। কিন্তু নিজের শখের বাড়ি ভাঙতে চাইছিলেন না তিনি। সেই সময়ই সমাজমাধ্যমে দেখেন বাড়ি না ভেঙে এই আধুনিক হাউস লিফটিং পদ্ধতির সাহায্যে মাটি থেকে বাড়ি উঁচু করা যায়। এরপর তিনি ওই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
advertisement
উত্তম ঘোষ বলেন, আমি খোঁজে পেয়ে এনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং একটি বাড়িতে কাজ হচ্ছিল তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ করি। সেখানে গিয়ে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিই আমিও এই পদ্ধতির সাহায্যে আমার বাড়ি উচ্চতা বাড়াব। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে মাত্র ১ মাসের মধ্যেই মাত্র ২৩০ টাকা স্কোয়্যার ফুট খরচে বাড়ির উচ্চতা বাড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন সময়ও বাড়ছে অন্যদিকে খরচ কম হচ্ছে।
উত্তমবাবুর স্ত্রী বলেন, অনেকেই বাড়ি ভেঙে তৈরি করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছিলাম যাতে বাড়ি না ভেঙে বাড়িটির উচ্চতা বাড়ানো যায়। একদিন হঠাৎ সমাজমাধ্যমে এই সংস্থার নম্বর পাই এবং ওনাদের সাথে যোগাযোগ করি। বাড়ি ভেঙে তৈরি করতে অনেক বেশি সময় লাগবে এবং খরচ অনেক বেশি হয়। এই পদ্ধতিতে অনেক কম সময়েই বাড়ির উচ্চতা বাড়ানো যাচ্ছে এবং ওনারা ১৫ বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছেন বাড়ির কিছু হবে না।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সংস্থার পক্ষ থেকে সুরেশ মাহাতো বলেন, এই পদ্ধতিতে বাড়ির জলের লাইন সহ সব কিছু ঠিক থাকবে, শুধুমাত্র বাড়ির নিচের মেঝে ভাঙা হবে। এমনকি দোতলা বাড়ি হলে তার উপরের কোন জিনিসপত্র সরানোর প্রয়োজনও পড়বে না। তিন ফুট পর্যন্ত তুলতে খরচ ২৩০ টাকা স্কোয়্যার ফুট এবং তার বেশি হলে প্রতি স্কোয়্যার ফুটে ৪০-৫০ টাকা বেশি লাগবে। আধুনিক এই ‘হাউস লিফটিং’ প্রযুক্তি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা দেশেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ শুধুমাত্র বাড়ির মেঝে ভেঙে জ্যাকের সাহায্যে অত্যন্ত কম খরচে বাড়ানো যাচ্ছে বাড়ির উচ্চতা।





