স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন সুমন মণ্ডল। শুক্রবার গভীর রাতে ওন্দা থেকে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মিল মোড়ের কাছে তাঁকে আক্রমণ করে বেশ কয়েকজন দুস্কৃতী। রাস্তার ধারে বাইক ফেলে সে আলু জমির উপর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দুস্কৃতীরা তাকে পিছন থেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ছুরির আঘাতে সুমন জমিতে পড়ে গেলে তাঁর শরীরে একাধিকবার ছুরি চালাতে থাকে হামলাকারীরা। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হলে হামলাকারীরা চম্পট দেয়। এরপরে স্থানীয় বাসিন্দারা আলুর জমিতে সুমনের দেহ পড়ে থাকতে দেখে কোতুলপুর থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহটি উদ্ধার করে।
advertisement
আরও পড়ুন: দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য দমনে তৎপর প্রশাসন! টলটলিতে তৈরি হল নতুন পুলিশ ক্যাম্প
ঘটনায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পাশের গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল সুমনের। এ কথা জানাজানি হতেই গৃহবধূর স্বামীর সঙ্গে বিবাদ বাঁধে সুমনের। গৃহবধূর স্বামী একাধিকবার সুমনকে এ বিষয়ে সতর্কও করেন। কিন্তু তাতেও কোনও ফল মেলেনি। এরপর সুমনকে খুনের ছক কষে ওই গৃহবধূর স্বামী।
অভিযোগ, শুক্রবার রাতে সে তার তিন সঙ্গীকে নিয়ে মিল মোড় এলাকায় সুমনকে খুন করেছে। রামপ্রসাদ রায় নামে মূল হামলাকারী সহ তাঁর তিন সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ধৃতদের এ দিন বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের তোলা হয়। আদালতে তোলার সময় সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে মূল অভিযুক্ত রামপ্রসাদ রায় স্বীকার করেন তিনিই খুন করেছেন। তিনি বলেন “আমার সংসারটা নষ্ট করে দিয়েছে। সংসারটা ভেঙে কুচি কুচি করে দিয়েছে সুমন”। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।






