স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামনগরের দেপাল গ্রাম পঞ্চায়েতের ফিফটিন ফিন্যান্সের অর্থ ব্যয় তৈরি হয়েছে একটি পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ ট্যাংক। সেটি স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজেশ জানাকে চুক্তিভিত্তিক লিজ দেওয়া হয়েছ। সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি সকালে প্ল্যান্ট খোলার সময় কর্মীরা ট্যাংকের চারপাশে এক তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পান। ভাল করে লক্ষ্য করে দেখতে পান, পানীয় জলের মূল ট্যাংকের চারপাশ জুড়ে বিষাক্ত সাদা গুঁড়ো এবং তরল কীটনাশক ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।
advertisement
আরও পড়ুন: ঋণ নিয়ে চাষ, অথচ বাজারে দাম মিলছে অর্ধেক! পূর্বস্থলীতে নার্সারির স্বপ্নে ভরাডুবি, চাষিদের হাহাকার
এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কারণ ওই প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ পানীয় জল সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় বহু দোকানে জল সরবরাহ করা হয়। ব্যবসায়ীর আশঙ্কা, দুষ্কৃতীরা বড় কোনও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে এই কাজ করেছে। ব্যবসায়ী জানান, সকালে এসে দেখি দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। ট্যাংকের বাইরে বিষাক্ত কীটনাশক ছড়ানো ছিল। কেউ ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে এই কাজ করেছে কি না বুঝতে পারছি না। তবে মানুষের জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কার কারণে আমি জল সরবরাহ বন্ধ রেখেছি।
আরও পড়ুন: ‘রাখে হরি মারে কে!’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা মন্দিরের মাথায় উঠল গাড়ি, যমের মুখ থেকে ফিরলেন চালক
অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশেও। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আপাতত ওই প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে দোষীদের শনাক্ত করা যায়। ট্যাংকের ভেতরের জলও ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় বিষ ভেতরে মিশেছে কি না। তাছাড়াও ব্যবসায়িক শত্রুতা না অন্য কোনও কারণে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
