Agriculture News: ঋণ নিয়ে চাষ, অথচ বাজারে দাম মিলছে অর্ধেক! পূর্বস্থলীতে নার্সারির স্বপ্নে ভরাডুবি, চাষিদের হাহাকার
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- hyperlocal
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Bardhaman Agriculture News: এবার শীতের বাজারে ক্রেতা কম। ফলে জমিতেই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ ফুলের চারা গাছ।
পূর্বস্থলী, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: প্রতিযোগিতা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে ফুলের চারা গাছ তৈরির চাষ। তবে জাঁকিয়ে শীত পড়লেও এবার বাজারে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না। ফলে জমিতেই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ ফুলের চারা গাছ। গাঁদা, বোরো ক্যালেন্ডুলা, চন্দ্রমল্লিকা-সহ একাধিক নামী মরশুমি ফুলের চারা বিক্রি না হওয়ায় গভীর হতাশার মুখে পড়েছেন পূর্বস্থলীর চাষিরা।
এই বিষয়ে ফুল চাষি প্রণব বিশ্বাস বলেন, এবার বর্ষা বেশি হওয়াতে সমস্যা হয়েছিল৷ এখন তো গাছ বড় হয়ে গিয়েছে৷ আমাদের এলাকা দিয়ে তো আর ক্রেতারা আসছেন না৷ ফলে আমাদের চাষ করাটাই বেকার হয়ে গেল৷ কি করব এখন বুঝতে পারছি না৷ ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলাম৷ পূর্বস্থলী ২ ব্লককে পূর্ব বর্ধমান জেলার সবজি ভাণ্ডার বলা হয়। বিকল্প চাষের ক্ষেত্রে এই এলাকার চাষিরা বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রথাগত ধানচাষের গণ্ডি ভেঙে এখানকার চাষিরা পিঁয়াজ, সর্ষে-সহ নানা ধরনের সব্জি চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তবে সবজির পাশাপাশি পূর্বস্থলীর নার্সারি শিল্পও জেলায় টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
advertisement
advertisement
পূর্বস্থলী জুড়ে বর্তমানে প্রায় দু’শোর কাছাকাছি ছোট-বড় নার্সারি রয়েছে। শীতের মরশুম শুরু হলেই এই নার্সারিগুলি থেকে ফুলের চারা বিক্রির কারবার জমজমাট হয়ে ওঠে। সেই কারণেই গত কয়েক বছর ধরে পূর্বস্থলীর বেলগাছি, কুমিরপাড়া, ফলেয়া, চুপি, মেড়তলা, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস পাড়া, ধাড়াপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকার একাংশ চাষি বিঘার পর বিঘা জমিতে ফুলের চারা গাছ তৈরির চাষ শুরু করেন। এই নার্সারি শিল্পের সঙ্গে এলাকার বহু বেকার ছেলে-মেয়ের রুজি-রোজগার জড়িয়ে রয়েছে। তাঁরা চাষিদের কাছ থেকে ফুলের চারা কিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করেন। অনেকেই আবার জীবিকার তাগিদে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দেন। তবে এবছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
advertisement
আরও পড়ুন: মহিলারাও এবার লাটাই হাতে রণংদেহি! বর্ধমানের অলিতে গলিতে ঘুড়ির পসরা, কেনাকাটার ধুম দেখলেই চোখ ধাঁধাবে
নার্সারির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা চরমে পৌঁছেছে। তার ওপর বাজারে চাহিদা না থাকায় পূর্বস্থলীর একাংশ চাষির তৈরি ফুলের চারা বিক্রি হচ্ছে না। ফলে জমিতেই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বহু মরশুমি ফুলের চারা গাছ। এতে বিপুল আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা। ফুল চাষি নিতাই চন্দ্র শীল বলেন, আমার জমিতে সারা বছর বিভিন্ন সবজির চাষ করি৷ কিন্তু শীতের মরশুমে ফুলের চারা তৈরি করি জমিতে৷ এবার গাছ বড় হয়ে গিয়েছে৷ জমিতেই পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে ফুলের গাছ৷ বিক্রি না করতে পারায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমাকে৷
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চাষিদের অভিযোগ, বর্তমানে গাঁদা ফুলের চারা প্রতি পিস মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চারা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা দরে। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে চারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। সবমিলিয়ে, এক সময় যে নার্সারি শিল্প পূর্বস্থলীর চাষিদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই শিল্পই এখন অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা ও বাজার সংকটের কারণে বড়সড় লোকসানের পথে ঠেলে দিচ্ছে এলাকার বহু চাষিকে।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
First Published :
Jan 06, 2026 10:19 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
Agriculture News: ঋণ নিয়ে চাষ, অথচ বাজারে দাম মিলছে অর্ধেক! পূর্বস্থলীতে নার্সারির স্বপ্নে ভরাডুবি, চাষিদের হাহাকার







