আরও পড়ুনঃ ভাত খেলেও সুগার নিয়ন্ত্রণে! ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সহজ ১৫ মিনিটের ট্রিক
মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ঘটনাটি ঘটে দাঁইহাট শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোকামপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের একাংশ প্রথমে যন্ত্রটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আকাশ থেকে এভাবে কোনও যন্ত্র পড়ায় এবং সেটি সচল থাকায় সন্দেহ আরও বাড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দাঁইহাট ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ যন্ত্রটিকে ঘিরে এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নিয়ে এসে সেটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সেটি কোনও বিস্ফোরক নয়। যন্ত্রটি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের মেট্রোলজিক্যাল দফতরের আবহাওয়া পরিমাপের একটি বিশেষ ডিভাইস। সঙ্গে সঙ্গেই দমদম মেট্রোলজিক্যাল দফতরের আধিকারিকদের বিষয়টি জানানো হয়।
advertisement
মোকামপাড়া একাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ শেখ বলেন, “আকাশ থেকেই এটা পড়েছিল। আমরা প্রথমে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা আলো জ্বলছে দেখে বোম ভেবেছিলাম, যদি ফেটে যায়। পরে পুলিশ এসে ওটা উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায়। জানতে পারলাম পরবর্তীতে যে ওটা আবহাওয়ার একটা কোনও যন্ত্র ছিল।”জানা গিয়েছে, কলকাতার দমদম মেট্রোলজিক্যাল দফতর থেকে প্রতিদিন দু’বার সকাল ও বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এই ধরনের ডিভাইস ছাড়া হয়। বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্যই এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ডিভাইসটির সঙ্গে একটি রাবারের প্যারাসুট সংযুক্ত থাকে এবং সেটি দমদম মেট্রোলজিক্যাল দফতর থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।এদিন প্যারাসুট ছিঁড়ে যাওয়ায় যন্ত্রটি দাঁইহাট শহরের মোকামপাড়ায় পড়ে যায়। যদিও ততক্ষণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।
দমদম মেট্রোলজিক্যাল দফতরের সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট সুনন্দ কুণ্ডু জানান, বর্তমানে রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রবল ঠান্ডা পড়েছে। কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন এমন ঠান্ডা পড়ছে, তার কারণ জানতে বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেই এই ডিভাইস ছাড়া হয়। তিনি আরও জানান, যন্ত্রটিতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল এটি কেন্দ্রীয় সরকারের মেট্রোলজিক্যাল দফতরের তরফে ছাড়া হয়েছে এবং এটি কোনওভাবেই ক্ষতিকর নয়।ঘটনায় যদিও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও আকাশ থেকে অজানা যন্ত্র পড়ায় কিছু সময়ের জন্য চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দাঁইহাটের মোকামপাড়া এলাকায়।





