মেদিনীপুর শহরের বার্জ টাউন তেমনই এক ঐতিহাসিক স্থান। স্বাধীনতার আগে এখানে ছিল ব্রিটিশ জেলাশাসকের বাংলো। ইতিহাসবিদদের মতে, এই আবাসন থেকেই অঘোষিতভাবে জেলার প্রশাসনিক কার্যকলাপ পরিচালিত হত। কার্যত এটি হয়ে উঠেছিল জেলা কালেক্টরের কার্য্যালয়। বাংলোটি শুধুই একটি বাসভবন ছিল না, ছিল ব্রিটিশ শাসনের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। বার্জ ছিলেন ব্রিটিশ আমলে মেদিনীপুরে কর্মরত এক জেলাশাসক, যিনি স্থানীয় মানুষের উপর অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। ১৯৩৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁকে হত্যা করেন।
advertisement
এই ঘটনায় ব্রিটিশ প্রশাসনের ভিত কেঁপে ওঠে। মৃত্যুর আগে বার্জ এই বাংলোতেই বাস করতেন এবং এখান থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ হত। বর্তমানে সেই ব্রিটিশ আমলের বাংলো ভগ্নপ্রায়। চারপাশে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়েছে। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কিছু অংশ ভেঙেও গিয়েছে। তবু ইতিহাসের গন্ধ আজও মিশে আছে প্রতিটি ইঁটে। স্থানীয়দের মতে, এই ভবনের দেওয়াল যেন আজও শুনিয়ে যায় অত্যাচার ও বিদ্রোহের কাহিনি।
স্বাধীনতার পর কিছুটা দূরে নতুন জেলাশাসক ভবন নির্মিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়। তবুও বার্জ টাউনের এই পুরনো বাংলো মেদিনীপুরের অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্য শুধু একটি ভবন নয়, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল।





