মকর সংক্রান্তির আগে থেকে উৎসবের আমেজের মেতে ওঠেন বর্ধমানবাসী। বর্ধমান শহরের একাধিক জায়গায় বসেছে ঘুড়ির দোকান। ইতিমধ্যেই ভিড় জমতে শুরু করেছে দোকানগুলিতে। নানা রকমের ঘুড়ি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। এই ঘুড়ির মেলাতে তিনদিন ধরে মেতে ওঠেন বর্ধমানবাসী। থাকে না কোনও বয়সের সীমা। আট থেকে আশি সকলেই মিলিত হন এই আনন্দে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সমান দক্ষতায় ধরেন লাটাই। কিন্তু মকর দিন ঘুড়ি ওড়ান হয় কেন? অনেকে মনে করেন, ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে প্রথম ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন। কথিত আছে, তাঁর ওড়ানো সেই ঘুড়ি এতটাই উঁচুতে উঠেছিল যে তা ইন্দ্রলোকে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই পবিত্র স্মৃতিকে ধরে রাখতেই এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: বসিরহাটের এই স্কুলে গেলেই পাবেন ‘ট্রেনের টিকিট’! ক্লাসরুমের ভোল বদল, দেখে সেলাম ঠুকছেন অভিভাবকরা
তবে বর্ধমানে মকর সংক্রান্তির দিন ঘুড়ি ওড়ানোর এই চল শুরু হয় বর্ধমানের মহারাজ মেহতাব চাঁদের আমল থেকে। ইতিহাসবিদ সর্বজিত যশ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়ির মেলা হয় বিশ্বকর্মা পুজোর সময়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে বর্ধমানে সেটা হয় শীতকালে। মহতাব চাঁদের সময় এই ঘুড়ির মেলার সূত্রপাত। তিনি শীতকালে ঘুড়ি ওড়াতে ভালবাসতেন। সেই থেকেই শীতকালে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা চালু হয়ে যায় বর্ধমানে। সেই রীতিই পরবর্তী সময়ে ঘুড়ির মেলার রূপ পায় ৷ তবে একদিন নয়, তিনদিন ধরে চলে এই ঘুড়ির মেলা৷ প্রথমদিনে অর্থাৎ মকর সংক্রান্তিতে বর্ধমানের শহরের বাসিন্দারা ঘুড়ি ওড়ান৷ দ্বিতীয় দিনে মেলা বসে দামোদর নদের তীরে৷ সেখানে নানা পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা৷
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তৃতীয় দিনে ছোটখাটো মেলা বসে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়া, লক্ষীপুর মাঠ সহ বেশ কয়েক জায়গায় চলে এই ঘুড়ি মেলা। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, রাজ আমলে ছিল ময়ূরপঙ্খি মেলা। বর্ধমানে মকর সংক্রান্তির সময় দামোদর নদের তীরে বসত ময়ূরপঙ্খি গানের আসর আর সেই গানের আসরকে কেন্দ্র করে বসত মেলাও। পরবর্তীকালে ময়ূরপঙ্খি গান ও মেলা বন্ধ হয়ে যায়। আর সেই মেলায় যুক্ত হয় ঘুড়ি ওড়ানোর চল ৷ তবে মকর সংক্রান্তির বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় তোড়জোড়। উৎসবের আমেজের মেতে ওঠে শহরবাসী। এই দিনগুলিতে শুধু ঘুড়ি ওড়ানো নয়, বর্ধমানের অধিকাংশ বাড়ির ছাদেই হয় পিকনিক। কালের নিয়ম বদলেছে বর্ধমানের অনেক কিছুই। কিন্তু রাজবাড়ির সেই শৌখিন আভিজাত্য আজও বেঁচে আছে প্রতিটি বাড়ির ছাদে, লাটাইয়ের সুতোয় আর রঙিন ঘুড়িতে।





