স্টেশনের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এসোসিয়েশনের সদস্যরা। যেসব যাত্রীর কাছে টিকিট ছিল তাঁকে আদর করে মুখে মিষ্টি তুলে দিয়েছেন তাঁরা। কেউ রসগোল্লা খেয়ে মুগ্ধ, কেউ আবার পান্তুয়ার স্বাদ নিয়ে বলেই ফেলছেন “আরে, এমন সচেতনতা হলেও ক্ষতি নেই।” দৃশ্য দেখে অন্য যাত্রীরাও হাসতে হাসতেই নিজেদের টিকিট দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু যাঁরা টিকিট কাটেননি তাঁদের সামনে এসোসিয়েশনের সদস্যরা করজোড়ে অনুরোধ রেখেছেন “টিকিট কেটে যাত্রা করুন। রেলের আয় বাড়লে আপনাদেরই সুবিধা।”
advertisement
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি ঘোষ জানান, রেলের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছে ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাটোয়া-আহমদপুর রেলপথে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর ট্রেন সংখ্যা বাড়াতে হলে ১০০ শতাংশ যাত্রীকে টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে হবে। যাত্রীদের নিয়ম মানার অভ্যাস তৈরি হলে রেলের আয় বাড়বে, আর তাতেই দ্রুত পূরণ হতে পারে এসোসিয়েশনের বহুদিনের দাবি ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি, পরিষেবা উন্নতি, নতুন সুবিধার সংযোজন ইত্যাদি।
হিমাদ্রি বাবুর কথায়, “আমাদের দাবি পূরণ করতে রেল বলেছে আয় বাড়ান। তাই আমরাও ভাবলাম, সচেতনতার পথ মিষ্টি করে নিলেই হয়তো বেশি ভাল ফল মিলবে।” এ ধরনের কয়েকটি কর্মসূচি আগেও করেছে এসোসিয়েশন। তবে এই দিনের উদ্যোগ ছিল সত্যিই আলাদা, মিষ্টির স্বাদে সচেতনতা ছড়ানোর অভিনব প্রচার রীতিমতো নজর কেড়েছে। সকালের ট্রেন যাত্রীরা কেউ এমন উদ্যোগ আগে দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অনেকেই আবার হেসে বললেন, “এভাবে মিষ্টি পেলে তো প্রতিদিনই টিকিট কেটে উঠব।” স্টেশনের এ দিনের ব্যস্ততা, যাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সদস্যদের আন্তরিকতা, সব মিলিয়ে পাঁচুন্দি স্টেশন যেন পরিণত হল এক মিষ্টিমাখা সচেতনতা মঞ্চে। রেলপথে পরিষেবা বাড়াতে এভাবে যাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে যে সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছে এসোসিয়েশন, তা নিঃসন্দেহে আগামী দিনে আরও বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সকলেই।






