শ্রীরামপুরের বেল্টিংবাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্রনীল মুখার্জী, বয়স ৩২ বছর। ছোটবেলায় যখন তার বয়স মাত্র ৮ মাস সেই সময় চিকিৎসার ভুলের কারণে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন ইন্দ্রনীল। তারপর থেকে কথা বলতেও শিখতে পারেননি তিনি। পরিবারের লোকজন অনেক চেষ্টা করেছিলেন ছেলেকে স্বাভাবিক করার।
advertisement
তবে ইন্দ্রনীল বর্তমানে যা করছেন তা একজন স্বাভাবিকের থেকেও অনেক বেশি ভাল। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়েও জীবনের প্রতিটা লড়াই লড়েছে একজন সাধারণ মানুষের মতো। পড়াশোনা থেকে খেলাধুলা সবেতেই নজর কারা পারফরম্যান্স ইন্দ্রনীলের। শ্রীরামপুর কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পাঠ শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ম্যানেজার পোস্টে কাজ করেন তিনি।
চাকরি করতে গিয়েই তিনি খুঁজে পান তার মতনই আরও এক জনকে। কলকাতার বাসিন্দা মহুয়া। তিনিও ছোট বয়স থেকে মুক ও বধির। মহুয়াও প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে নিজের জীবন সংগ্রাম লড়ে চড়েছিলেন একাই। পড়াশোনা, বাস্কেটবল, এ সমস্ত নিয়েইছিল তার জীবন। তবে জীবনের বড় মোড় আসে বছর কয়েক আগে। কাজের বন্ধুর সূত্রে দু’জনার একে অপরের সঙ্গে পরিচয়।
দুজনের কেউই কথা বলতে পারেন না কেউ শুনতে পায় না কিছু তবে তাদের এই নিঃশব্দের ভালবাসা পেয়েছে তাদের পরিণতি। অবশেষে চার হাত এক হয়েছে দু’জনার। ঠিক যেমন একজন সাধারন মানুষ তার জীবন যাপন করেন সেভাবেই মহুয়া ও ইন্দ্রনীল ঘর বেঁধেছে একসঙ্গে বাঁচার জন্য।
দুজনের কথোপকথন হয় ইশারাতে। অনেক সময় একে অপরের দিকে তাকিয়েই তারা দুজন দুজনের মনের কথা বুঝতে পেরে যান। বাইরের লোক খুব একটা না বুঝলেও তারা দু’জন দু’জনের জন্য যে একেবারে উপযুক্ত সে কথা বলছেন গোটা পরিবারের লোকজন।
রাহী হালদার





