গোটা রাত প্রায় জেগেই থাকতে হয় তাকে। নজরদারি করতে হয় গোটা কলেজকে। রাতের প্রহরী বা নাইটগার্ডের কাজ করেন তিনি। আর কখনও কখনও গোটা রাতটুকু পার হয় বাঁশির সুরে।পেশাগতভাবে বংশপরম্পরায় পরিবারে ঢাক, ঢোল, তাসা বাজানোর চর্চা থাকলেও তেমন কেউ জানতেন না বাঁশি। ছোট থেকেই ঢাক বাজাতে পারেন তিনি। তবে কলেজে যখন তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করেন তখনই বিকল্প কাজ করার মানসিকতা নিয়ে তিনি নিজেই শিখেছিলেন বাঁশি। কখনও কোনও অনুষ্ঠানে দেখে, কিংবা কারুর থেকে তাল, লয় শিখে তিনি শুরু করেন বাঁশি বাজানোর কাজ। এখনও সেই ধারাকে ধরে রেখেছেন তিনি। তবে তার প্রতিভা চমকে দেবে সকলকে।
advertisement
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন কলেজের নাইটগার্ড প্রদীপ ঘোড়াই। বাড়ি দাঁতন থানার চকইসমাইলপুর গ্রামে। ২০১০ সাল থেকে তিনি দাঁতন ভট্টর কলেজে অস্থায়ী ভিত্তিতে গ্রুপ ডি-এর কাজ করতেন। সেই সময় তার কাজ স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন তিনি। পারিবারিকভাবে যেহেতু শিল্পচর্চা রয়েছে তাই তিনি অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে শুরু করলেন বাঁশি বাজানোর কাজ। তেমন কোনও প্রথাগত তালিম মেলেনি। নিজের ইচ্ছেতেই তিনি শিখেছেন।
এরপর কলেজের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এমনকি যাত্রা দলেও আবহ সৃষ্টি করেছেন তিনি। মূলত পেশা হিসেবে বেছে নিতে তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন বাঁশের বাঁশি। পরে অবশ্য কলেজের কাজ স্থায়ী হতে তিনি শখের বশে এখনও বাঁশি বাজান।
কখনও কখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেন তিনি। সংসার সামলে চলে তার এই শিল্পের কাজ। মধুর সুরে ভরে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। সাংসারিক বোঝা বদলে দিয়েছে। এককালে যাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন তা এখন শখে পরিণত হয়েছে। সবকিছু সামলেও তিনি যেন তার জীবনের আবহ বাঁশিতেই সৃষ্টি করেন। তার এই প্রতিভাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।





