নব্বইয়ের দশকে শেষবার সংস্কার হয়েছিল, ফলে ধীরে ধীরে জৌলুষ হারাচ্ছিল ভবনটি। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বর্ধমান পৌরসভার উদ্যোগে শুরু হয় পুনরায় সংস্কারের কাজ। টাউনহলের রাজকীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে বড় বড় ঝাড়বাতি, বিভিন্ন মনীষীদের ছবি-সহ অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম ও নানান ব্যবস্থায় নবরূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট থেকে একটু গেলেই বংশ গোপাল টাউনহল। বর্ধমান রাজ পরিবারের আত্মীয় বংশগোপাল নন্দের স্মৃতি রক্ষার্থে গতিপ্রকাশ নন্দ বর্ধমান পৌরসভাকে জায়গাটি দান করেন। তখন জায়গাতে ছিল রাজাদের বাগান এবং বাগানের মাঝে ছিল একটি সুন্দর ভবন। রাজ আমলের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হল ঐতিহ্যবাহী টাউনহলটি।
মঞ্চের আয়তন সামনের দিকে বাড়ানো হয়েছে ২ মিটার এবং পুরনো কাঠ সরিয়ে সেগুন কাঠ দেওয়া হয়েছে। আধুনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চটিকে। হলের ভিতরে থাকা বিখ্যাত ব্যক্তিদের পুরনো ছবিগুলি সরিয়ে নতুন করে ছবি সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি আর্কিটেক্ট দিয়ে সমস্ত নকশা তৈরি করে সংস্কার করা হয়। মঞ্চের পাশে একটি মহিলা এবং একটি পুরুষ গ্রিন রুম এবং মহিলা গ্রিন রুমে রয়েছে বাথরুম। এমনকি থাকছে ভিআইপি গেস্টদের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থাও। কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আনা হয়েছে আলো ও সাউন্ড। তবে মঞ্চের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়া এবং আসনগুলি আরামদায়ক করার ফলে কিছুটা কমেছে আসন সংখ্যা। শুধুমাত্র টাউনহলের ভিতরেই নয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে বাইরের অংশটিকেও। টাউনহলের পুরনো ঐতিহ্যকে বজায় রেখেই বাইরের অংশে করা হয়েছে রং ও নানা ডিজাইন। এছাড়াও থাকছে বিশেষ আলোর ব্যবস্থা। বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী এই টাউন হল সংস্কার হওয়ায় খুশি বর্ধমানবাসী। তারা চান টাউনহল সংস্কারের পাশাপাশি মাঠে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করা হোক সেডের ব্যবস্থা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘টাউনহলের পুরানো ঐতিহ্যকে বজায় রেখে আধুনিক মানের অডিটোরিয়াম তৈরি করাটা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। ঐতিহ্য বজায় রেখে কলকাতার বাইরে বিশেষ আধুনিক সুবিধা যুক্ত অডিটোরিয়াম গড়ে তোলাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করি বর্ধমানবাসী-সহ সাংস্কৃতিক জগতের সকলেরই পছন্দ হবে এই নতুন টাউনহল।’





