জানা গিয়েছে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ৭ তলা নতুন ভবনের পিছনের জলাশয়টি দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জলাশয়টি ধীরে ধীরে মজে যেতে শুরু করেছে। অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরের অন্যান্য অংশে একের পর এক প্রকল্প ও নতুন ভবন নির্মাণের ফলের রোগীর পরিজনদের বিশ্রামের জন্য ফাঁকা জায়গাও প্রায় নেই বললেই চলে।
advertisement
এই পরিস্থিতিতে বর্ধমান হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে মনোরম পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ও অন্যান্য সুবিধার জন্য এই জলাশয়টির চারপাশে সৌন্দর্য্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহত হয়েছে। বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের সহযোগিতায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
এ জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আর্থিক সহায়তা দেবে বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদ। প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
বিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাশয়টি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হবে। পুরো জলাশয়টির চারপাশ ঘিরে দেওয়া হবে। জলাশয়টির দুপাশে দুটি বাঁধানো ঘাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া, বিশ্রামের জন্য জায়গা, ছাউনি, পাড় বরাবর রাস্তা নির্মাণ করা হবে। গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং তৈরি করা হবে। পুরো এলাকাটির চারপাশে গাছ লাগানো ও আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রতিদিন ভিন রাজ্য থেকে অনেক মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। অনেক সময় রোগী ভর্তি থাকলে রোগীর পরিজনরা বিশ্রামের জন্য ঠিকমতো জায়গা পান না। এছাড়া হাসপাতালে এক ঘেঁয়েমি পরিবেশের বাইরে গিয়ে মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন রোগীর পরিজনেরা। এছাড়া, জলাশয়টি সংস্কারের ফলে দূষণ কমবে।
আরও পড়ুন, স্কুলের ছাদে ফলছে সবজি, মিলছে মিড ডে মিলে সাহায্য, অন্য ছবি পূর্বস্থলীতে
বিডিএ-র চেয়ারম্যান কাকলি গুপ্ত তা জানান, মোট ২৬ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের তহবিলে এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই বিষয়ে টেন্ডার ডাকা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন, মমতার নির্দেশের পর তাড়াহুড়োয় বিপত্তি, শীতবস্ত্র নিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ল ম্যাটাডোর
মূলত, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনদের কথা ভেবেই এই প্রকল্পটির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এরফলে হাসপাতাল চত্বরের মধ্যেই বিশ্রামের জায়গা পাবেন তাঁরা। পাশাপাশি সৌন্দর্য্যায়নের ফলে হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর হবে।
