কর্মসূত্রে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার সময় বঙ্কিমচন্দ্র এই এলাকায় এসেছিলেন। নেগুয়ায় অবস্থানকালে মন্দিরটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। শুধু তাই নয়, মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার চৌধুরী জমিদার বাড়ির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। এই মন্দির ও জমিদার বাড়িকে ঘিরেই আজও ছড়িয়ে রয়েছে সাহিত্যসম্রাটের বহু স্মৃতি।
আরও পড়ুন: বাজারচলতি লোশন তো মাখেন, শীতে হাতে-পায়ে সরষের তেল মালিশ করলে কী হয় জানেন? রইল বিশেষজ্ঞের মত
advertisement
আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনী কথা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আনুমানিক অষ্টাদশ শতকে এই মন্দির নির্মিত হয়। চৌধুরী জমিদার বাড়ির পূর্বপুরুষ হরনারায়ণ চৌধুরী এই মন্দির নির্মাণ করেন। তিনি এই অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। পাশাপাশি, ছিলেন একজন পরম শিবভক্ত। সেই ভক্তির প্রকাশ হিসেবেই তিনি সিদ্ধেশ্বর জিউর মন্দির নির্মাণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই মন্দির এলাকাবাসীর ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বহু উৎসব ও আচার অনুষ্ঠান আজও এই মন্দিরকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থাপত্যের দিক থেকেও সিদ্ধেশ্বর জিউর মন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি ওড়িশা রীতির পঞ্চরথাকৃতি শিখর দেউল মন্দির। চারচালা বিশিষ্ট এই মন্দিরের শীর্ষে রয়েছে বড় আমলক। তার উপর বসানো একটি ক্ষুদ্রাকৃতি আমলক। তারও উপরে রয়েছে ত্রিশূল। বড় আমলকের নীচে দেখা যায় একাধিক ভাস্কর্য মূর্তি। গর্ভগৃহের সামনে রয়েছে জগমোহন বা ভোগমণ্ডপ। এর উপরিভাগ লহরাযুক্ত। দু’পাশে রয়েছে সিংহমূর্তি। মাঝখানে কলস, আমলক ও ত্রিশূল। মন্দিরের ঠিক উত্তর পাশে রয়েছে শীতলাদেবীর একটি সমতল ছাদের মন্দির।
আরও পড়ুন: ইচ্ছে থাকলে সব সম্ভব! UPSC-IES পরীক্ষায় ১১২ র্যাঙ্ক করে প্রমাণ দিলেন বিশেষভাবে সক্ষম মানবেন্দ্র
স্থানীয় ইতিহাস বিশেষজ্ঞ বিমল শীটের কথায়, ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্কিমচন্দ্র নেগুয়ায় অবস্থান করেন। সেই সময় তিনি সিদ্ধেশ্বরের প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী জমিদার পরিবারের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন। এখানেই তাঁর সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। বলা হয়, কালজয়ী উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’-র ভাবনার বীজ রোপিত হয় এই নেগুয়াতেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্মৃতি হারিয়ে গিয়েছে। বদলে গিয়েছে পরিবেশ। তবে আজও দাঁড়িয়ে আছে সিদ্ধেশ্বর জিউর মন্দির। যা মনে করিয়ে দেয় বঙ্কিমচন্দ্রের নেগুয়া-স্মৃতি এবং চৌধুরী জমিদার বাড়ির গৌরবময় ইতিহাস।





