আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক বীরকুমার শী’র কথায়, অতীতে কুদি থেকে পূর্বদিকে একটি জলপথ সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হত। এটিকেই স্থানীয়রা কুদি গঙ্গা নামে চিনতেন। অনেকে আবার একে আদি গঙ্গা বলে উল্লেখ করতেন। ১৯৭১ সালে কুদি শিবমন্দিরের কাছ দিয়ে প্রবাহিত এই জলস্রোতের ওপর অতি উচ্চ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জলস্রোতের প্রাকৃতিক গতিপথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। খাল কেটে করে নতুন জলনিকাশের পথ তৈরি করা হয়, যা রামনগর হয়ে শংকরপুরে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। এই খালটিই বর্তমানে ‘চম্পা নদী’ নামে পরিচিত। যদিও নাম নদী, বাস্তবে এটি মূলত সেচ ও জলনিকাশের খাল—কৃষিকাজের সুবিধার্থে তৈরি কৃত্রিম প্রবাহ।
advertisement
এখন প্রশ্ন—যাকে এলাকার মানুষ অতীতে আদি গঙ্গা বলতেন, তার প্রকৃত উৎস কোথায়? ইতিহাসবিদদের মতে, উত্তর খুঁজতে গেলে যেতে হবে এগরার বর্তনা গ্রামে। এখানে ছিল গঙ্গা পুকুর নামে এক বিশাল প্রাচীন জলাশয়। উড়িষ্যা-অধিকৃত সময়ের জমিদার মাইতি পরিবারের চতুর্থ বা পঞ্চম পুরুষ, জমিদার হরপ্রসাদ মাইতি এই পুকুরটি খনন করেছিলেন। পুকুরটির জলের পরিমাণ ছিল ছয় বিঘারও বেশি। চারদিকে পাড় মিলিয়ে আয়তন দাঁড়াতো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন জলস্রোতের জল এই পুকুরে এসে মিশত। এখান থেকেই উৎপত্তি এই জনস্রোতের, একেই অনেকে আদি গঙ্গা এবং কুদি গঙ্গা নামে ডাকতেন।
সময়ের সঙ্গে এগরার নদীবন্দর হারিয়ে গেছে। জলপথ শুকিয়ে গেছে, অনেক খাল দখলে পড়ে বিলীন হয়েছে। তবুও স্থানীয় স্মৃতি, পুরনো নথি ও মানচিত্রে স্পষ্ট—একসময় এগরা ছিল জলযান ও বাণিজ্যের কেন্দ্র। কুদি গঙ্গা বা আদি গঙ্গা শুধু একটি নদীর নাম নয়; এটি এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস ও নদীনির্ভর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আজকের নিকাশি খাল আর ভরাট জলপথের নিচে সেই ইতিহাস চাপা পড়ে আছে।





