চন্দ্রকোনার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলোতে বহু বছর ধরে চালু রয়েছে গৃহপালিত পশুর গলায় ঝোলান কাঠের বিশেষ এক ধরনের ঘন্টা। কাঠের তৈরি এই ছোট্ট যন্ত্রটি পশু চললেই টুংটাং শব্দ করে। জঙ্গলের ভেতর যখন বাতাস থমথমে, আলো কম, আর চারিদিকে পাতার শব্দ তখন এই কাঠের ঘন্টার আওয়াজই গ্রামের মানুষকে পথ দেখায়। পশুগুলো যতই ভিতরে ঢুকে যাক, মালিকেরা শুধু শব্দ শুনেই টের পেয়ে যান ঠিক কোনদিকে যেতে হবে। এ যেন আধুনিক প্রযুক্তিহীন গ্রামীণ জিপিএস!
advertisement
পথ হারিয়ে ফেলা পশুদের খুঁজে আনার এই কৌশল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে, আর আজও সমান কার্যকর। গ্রামের মানুষের মতে, এই কাঠের ঘন্টা শুধু পশুকে খুঁজে পাওয়া সহজ করে না, বরং জঙ্গলের বন্যপ্রাণী থেকেও কিছুটা রক্ষা করে। আওয়াজ পেয়ে বুনো জন্তুরা অনেক সময় দূরে সরে যায়। চাষাবাদ আর দৈনন্দিন জীবনে গৃহপালিত পশু যেমন গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনই তাদের সুরক্ষা ও নজরদারির জন্য এই ঘন্টা যেন এক সহজ সুলভ সমাধান।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রকৃতি আর বুদ্ধির সুন্দর মিশেল চন্দ্রকোনার এই আবিষ্কার আজও দেশের নানা প্রান্তে নজর কাড়ে। জঙ্গল যত ঘন, ঘন্টাধ্বনি তত স্পষ্ট, এভাবেই দিনের শেষে ঘরে ফিরে আসে গ্রামের পশুরা। এটাই চন্দ্রকোনার মানুষের সাদামাটা কিন্তু অসাধারণ জীবনবোধের ছবি।





