মহিষাদলের মধ্যহিংলিতে রং মিস্ত্রির জোগারদার নীলমণি হাইত ও দুর্বলা হাইত-এর দিন কাটত ঝুপড়িতে। ষাটোর্ধ্ব ওই দম্পতিরই একতলা পাকা ঘর তৈরি হল স্কুলপড়ুয়াদের উদ্যোগে। পাশে থাকলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মহিষাদলের ওই স্কুল লাগোয়া মধ্যহিংলি খাল পাড়ে। খালপাড়ে বহু মানুষের বাস। নীলমণি একসময় রঙ মিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করতেন। এখন অশক্ত শরীর। কাজ করার ক্ষমতা নেই। কালো পলিথিমের চাদরে মোড়া ঝুপড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে দিন কাটত নীলমণির। ছেলেমেয়ে বলতে তিন মেয়ে। সকলেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অভাবে কোনওমতে দিন কাটে। মাথার ওপর পাকা ছাদ ও শৌচাগার পেয়ে বেজায় খুশি দম্পতি। নীলমণি বাবুর মেয়ে বলেন, 'স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জন্যেই তার বাবা বাড়ি পেয়েছেন, তারা বেজায় খুশি।'
advertisement
আরও পড়ুন: মৃত্যুর তিন মাস পর নতুন ধারাবাহিকে ফিরছেন পল্লবী দে! আশায় বুক বাঁধছেন বাবা-মা!
পড়ুয়াদের এমন সামাজিক উদ্যোগে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষও। স্কুলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হরিপদ মাইতি জানান, ''স্কুলের পাশেই নীলমণির ঝুপড়ি। ছেলেমেয়েরা তাদের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে ৫০ হাজার টাকা তুলেছে। পড়ুয়াদের এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন শিক্ষক–শিক্ষিকারাও। স্কুলও কিছু আর্থিক সাহায্য করেছে। তবে সবার আগে ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগের প্রশংসা করতে হয়।’’
আরও পড়ুন: কালো পোশাকে হট অনুষ্কা! ছবি শেয়ার করে প্রকাশ্যে একী লিখলেন বিরাট? জানুন
স্কুলের তরফে জানা যায়, মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নিজেদের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতি ঘর গড়ে দেওয়া নিয়ে এক পড়ুয়ার বক্তব্য, ‘‘ক্লাসঘর থেকে দেখতাম নীলমণিদাদুর ওই কালো ত্রিপলে ঢাকা দুপড়ি রোজ নজরে পড়ত। ঠিক করি আমরা সবাই চাঁদা তুলে ওঁকে সাহায্য করব। শিক্ষকদের জানালে ওঁরাও এগিয়ে আসেন। এখন ভাল লাগছে।’’ মহিষাদলের ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়ারা স্কুলের টিফিন খরচের টাকা বাঁচিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির ঘর বানিয়ে দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
Saikat Shee





