নামকরণের ইতিহাস বিষয়ে লেখক বিশ্বজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের জানান, বসিরহাট নামকরণ নিয়ে নানা মত পার্থক্য আছে। একটি মতে ‘বশি’ মানে নুন। বসিরহাটে যে একটা সময়ে নুনের বাণিজ্য চলত তার থেকেও নামকরণ হতে পারে। আবার ধারণা করা হয়, মুঘল আমলে বা তারও আগে এই অঞ্চলে ‘বসির’ বা ‘বশির’ নামে এক প্রভাবশালী জমিদার বা জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব বসবাস করতেন। তাঁর নাম অনুসারেই এলাকাটির নাম ধীরে ধীরে ‘বসিরহাট’ হয়ে ওঠে। ‘হাট’ শব্দটি গ্রামীণ বাজার বা বাণিজ্যকেন্দ্রকে নির্দেশ করে, ফলে বসিরের হাট—এই অর্থ থেকেই ‘বসিরহাট’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারি শেষের আগেই বাগানে ৮ সবজির বীজ ছড়ান, সারা গরম তাজা সবজিতে ভরবে বাগান, বাজারে যেতে হবে না
আবার কারও কারও মতে বসিরহাটের থলতিথা এলাকায় বসু জমিদারদের ‘বসু’ শব্দটি থেকে বসিরহাট নামকরণ হয়েছে। ব্রিটিশ আমলেও বসিরহাট প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ধরে রাখে। আদালত, থানা, বাজার এবং নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শহরটি দ্রুত বিকশিত হয়। ফলে নামটি শুধু একটি বাজারকেন্দ্রের পরিচয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের পরিচয় হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পায়।
আজকের আধুনিক বসিরহাট শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে শহরের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই প্রাচীন ইতিহাস এখনো মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায় এবং নতুন প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে পরিচিত করে। এভাবেই একটি ছোট হাটকে কেন্দ্র করে জন্ম নেওয়া ‘বসিরহাট’ নামটি আজ শতাব্দীর ইতিহাস বহন করে দাঁড়িয়ে আছে উত্তর ২৪ পরগনার এক ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবে।





