৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা! জানেন, কে ছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই?
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
Who Was Ayatollah Ali Khamenei: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটাল। প্রায় চার দশক ধরে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন এবং পররাষ্ট্রনীতি থেকে সামরিক কৌশল—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব ছিল নিরঙ্কুশ। রাষ্ট্রীয় ভাবে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর প্রয়াণের পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার রদবদল এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু ইরানের আধুনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। তাঁর প্রয়াণের পর সামনে প্রশ্ন—কে হবেন পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা এবং কোন পথে এগোবে ইরান? রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় খামেনেই শনিবার ভোরে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুতে সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।
advertisement
১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে এক সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে জন্ম খামেনেইয়ের। ১৯ বছর বয়সে তিনি কুম শহরে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের প্রধান কেন্দ্র। সেখানে তিনি আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনির অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০-এর দশকে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। একাধিক বার গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিন বছর অন্তরীণ নির্বাসনে কাটান।
advertisement
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অস্থির সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতৃত্ব হিসেবে উঠে আসেন। বিপ্লবের পর নতুন রাজনৈতিক কাঠামোয় দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তেহরানের জুমার নামাজের ইমাম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে এক হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন, তবে তাঁর ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। একই বছর তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা সংহতির পর্ব চলছিল।
advertisement
১৯৮৯ সালে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সংবিধান সংশোধন করে খামেনেইকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়, যদিও শুরুতে তাঁর ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলির ঊর্ধ্বে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কৌশলগত পররাষ্ট্র ও পারমাণবিক নীতির ওপর তাঁর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্ট ও সংসদের ক্ষমতাকেও ছাপিয়ে যেত তাঁর প্রভাব।
advertisement
খামেনেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনুগতদের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেন, যদিও গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন। সীমিত অর্থনৈতিক বেসরকারিকরণে সায় দিলেও রাজনৈতিক সংস্কারে অনীহা দেখান। তাঁর আমলে ইরান জ্বালানি শক্তিতে স্বনির্ভরতার দিকে এগোয়, কিন্তু পশ্চিম ও ইজরায়েলের প্রতি কড়া অবস্থানের জেরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।
advertisement
সাদা দাড়ি, কালো পাগড়ি ও ধর্মীয় পোশাকে সংযত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত খামেনেই সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর আর ইরান ছাড়েননি। তাঁর শাসনামলে ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট থেকে শুরু করে ২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ—সব ক্ষেত্রেই কঠোর দমননীতি গ্রহণ করা হয়। হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হন, বহু প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে, এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে।
advertisement
পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি ইজরায়েলের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধাচরণকে রাষ্ট্রীয় আদর্শে রূপ দেন। তাঁর নেতৃত্বে আইআরজিসির ভূমিকা বিস্তৃত হয় এবং ইরান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও গাজায় মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন দেয়। এতে আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি পেলেও প্রতিবেশী আরব দেশগুলির সমালোচনার মুখে পড়ে তেহরান।
advertisement
যদিও তিনি দাবি করতেন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তাঁর আমলেই জটিল পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালে ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে রাজি হয়, কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। পশ্চিমা শক্তির প্রতি তাঁর সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়।
advertisement
advertisement







