শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী হলে দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের কনভেনশনে এই ঘোষণা করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম আহমেদ মীর। তিনি বলেন, কোনও বুথে তৃণমূল ও বিজেপিকে হারিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে ৮০ শতাংশ ভোট নিয়ে আসা সহজ নয়, এর জন্য কঠিন লড়াই করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জই বুথ স্তরের নেতা-কর্মীদের সামনে রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “একটি বুথ থেকে আশি শতাংশ ভোট নিয়ে আসতে পারলেই সেটাই বড় জয়।”
advertisement
কনভেনশনে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলা ও ব্লক নেতৃত্বকে নিজেদের এলাকার বুথে আরও বেশি সময় দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। যদিও ফেব্রুয়ারির শেষে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও, শিলিগুড়ি মহকুমার সব বুথে এখনও কমিটি গঠন সম্পূর্ণ হয়নি বলে স্বীকার করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সুবিন ভৌমিকের এটিই ছিল প্রথম কনভেনশন। একই সঙ্গে জাতীয় ও প্রদেশ নেতৃত্ব উত্তরবঙ্গের সব জেলায় তৃণমূল স্তর থেকে সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, নির্বাচনের সময় পোলিং স্টেশন থেকেই ভোট লুট হয়, তাই প্রতিটি পোলিং স্টেশনে দলের এজেন্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কেবল মিটিং-মিছিল করে তৃণমূল বা বিজেপিকে হারানো যাবে না—বুথ স্তরের সংগঠনই আসল চাবিকাঠি। তবে দুর্বল সংগঠনের পাশাপাশি কংগ্রেসের অন্দরে দলাদলিও রয়েছে বলে প্রদেশ নেতৃত্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিন কনভেনশনে আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রদেশ সভাপতি। তাঁর দাবি, তৃণমূল ও বিজেপির দিকেই যেন সবার নজর থাকে, সেজন্যই এমন “সেটিংয়ের রাজনীতি” চলছে। কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অম্বা প্রসাদ, জেলা সভাপতি সুবিন ভৌমিক, কংগ্রেস কাউন্সিলর সুজয় ঘটক, মুনিশ তামাং-সহ একাধিক নেতা। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি থেকে কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা—৮০ শতাংশ ভোটই লক্ষ্য, আর সেই জয়ের পুরস্কার কাশ্মীর সফর।






