কালিয়াচকের গয়েশ্বরী প্যারিভূষণ বিদ্যানিকেতনের ছাত্র অরিজিৎ মণ্ডল। তাঁর মাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে সাহাবাজপুর উমাচরণ হাই স্কুলে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অরিজিৎ মণ্ডল জানান, “আগামীতে পড়াশোনা করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। অংক করতে খুব ভাল লাগে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসেছি। রাইটার ও সময় এই দুটি অপশন দেওয়া হয়েছিল। সময়কে বেছে নিয়েছি। ৪৫ মিনিট বেশি সময় দেওয়া হয়েছে এতে প্রায় সম্পূর্ণটা লিখতে পারছি।”
advertisement
মালদহের কালিয়াচক ৩ ব্লকের আকন্দবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা অরিজিৎ মণ্ডল। বাড়িতে রয়েছে বাবা অখিল মণ্ডল মা শেফালি মণ্ডল ও তিন ভাই। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় অরিজিৎ। মা শেফালী মণ্ডল জানান, “জন্ম থেকেই দুই হাত ও ডান পায়ে সমস্যা তাঁর। পড়াশোনা করে এতদূর এগিয়ে যেতে পেরেছে দেখে খুব ভাল লাগছে। আগামীতে আমরা তাঁর পাশে থাকব।”
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মালদহের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব গুপ্ত জানান, “বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় কোনও রাইটার ছাড়াই নিজের হাতে লিখছে অরিজিৎ। তাঁকে ৪৫ মিনিট বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়।”
স্মৃতিশক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ভরসায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় অরিজিতের এই দৃশ্য সকলের নজর কেড়েছে। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজের হাতে কলম ধরে এগিয়ে চলার তাঁর লড়াই হার মানাচ্ছে সমস্ত রকম প্রতিকূলতা ও বাধাকে।





