দেশজুড়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন প্রজন্মকে তুলে ধরতে খড়গপুর আইআইটির ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয় জাতীয় স্তরের মেধা অনুসন্ধান প্রতিযোগিতা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তর থেকে অসংখ্য প্রতিযোগী অংশ নেয় এই ইভেন্টে। একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায় মাত্র পাঁচটি স্কুল। সেই সেরা পাঁচের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে নবদ্বীপ বকুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়।
advertisement
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্র—রূপকুমার সাহা, অর্ক দত্ত ও আকাশ দেবনাথ—তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প দিয়ে বিচারকদের নজর কেড়ে নেয়। তাদের তৈরি মডেলের নাম—‘স্মার্ট ভেহিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম’। মূল লক্ষ্য একটাই—পথ দুর্ঘটনা কমানো। এই মডেলের বিশেষত্ব হল—গাড়ি চালানোর সময় চালক যদি টানা কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ রাখেন, সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। অর্থাৎ ড্রাইভারের ‘ড্রাউজিনেস ডিটেকশন’ সিস্টেম সক্রিয় হয়ে তাকে সতর্ক করবে। শুধু তাই নয়, গাড়ির সামনে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে অন্য কোনও যানবাহন বা বাধা এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির গতি কমে যাবে। প্রয়োজনে অটোমেটিক ব্রেকিং সিস্টেম গাড়িকে থামিয়ে দেবে। ফলে হঠাৎ সংঘর্ষের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে।
আরও পড়ুন: মামার বাড়ি থেকে আর ফেরা হল না! মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ভাগ্নে, শোকাতুর পূর্ব মেদিনীপুর
ছাত্রদের দাবি, আধুনিক সেন্সর ও প্রোগ্রামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এই মডেল তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব গাড়িতেও প্রয়োগযোগ্য হতে পারে। ছাত্রদের কথায়, “আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেক দুর্ঘটনা ঘটে ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে। তাই এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যা চালককে আগেভাগেই সতর্ক করবে। আমাদের দলের একজনের আত্মীয় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ঘটনাই আমাদের এই প্রকল্পে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রায় দুই মাস ধরে আমরা পরিকল্পনা, ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে এটিকে আরও উন্নত করার ইচ্ছে রয়েছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দেশজুড়ে বিভিন্ন নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের জায়গা করে নেয় নবদ্বীপের এই তিন কিশোর। বিচারকদের মতে, বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা এবং প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর বাবু জানান,
“আমাদের ছাত্ররা জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করেছে—এটা গোটা বিদ্যালয়ের কাছে গর্বের বিষয়। সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও ওরা যে এই সাফল্য দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”





