পেশায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী বাবলুবাবু রাজনৈতিক মিছিলের পথে হাঁটেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন নীরব কিন্তু গভীর অর্থবহ প্রতিবাদের ভাষা। নিজের সাইকেলের সামনে একটি জীবন্ত গাছ বেঁধে এবং নাকে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর এই দৃশ্য যেন ভবিষ্যতের এক ভয়াবহ বাস্তবতার ইঙ্গিত-আজ যদি গাছ না বাঁচানো যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে কৃত্রিম অক্সিজেনই হয়ে উঠতে পারে মানুষের শেষ ভরসা।
advertisement
এই অভিনব প্রতিবাদের পিছনে রয়েছে প্রতিদিনের এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। বাড়ি থেকে চেকপোস্টে কাজে যাওয়ার পথে তিনি নিয়মিত লক্ষ্য করেছেন, এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের জন্য কীভাবে একের পর এক প্রাচীন গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। একসময়ের ছায়াঘেরা রাস্তা আজ রোদে পোড়া কংক্রিটের করিডরে পরিণত হয়েছে। শিলিগুড়ির মতো সবুজ শহর ক্রমে বহুতল ও ইট-পাথরের জঙ্গলে বদলে যাচ্ছে। এই বদল তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে।
বাবলুবাবুর কথায়, “আমি প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পথে দেখছি কীভাবে রাস্তার ধারে একের পর এক পুরনো গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু উন্নয়নের নামে যদি আমরা আমাদের শ্বাস নেওয়ার একমাত্র ভরসাটাই নষ্ট করে দিই, তাহলে সেটা কখনও টেকসই হতে পারে না। মানুষ আজ হয়তো বিষয়টা গুরুত্ব দিচ্ছে না, কিন্তু কয়েক বছর পর এর ভয়াবহ ফল সবাইকে ভুগতে হবে।”
দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর মানুষ যখন বিশ্রাম খোঁজে, তখন ক্লান্ত শরীর নিয়েই সাইকেল চালিয়ে সচেতনতা ছড়াতে বেরিয়ে পড়েন বাবলুবাবু। এর আগেও তিনি কোচবিহারের বিভিন্ন গ্রাম ও ব্লকে ঘুরে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষা কোনও নির্দিষ্ট দিন বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়- এটি প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, কোনও সংগঠনের নেতা নই। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই মনে করি পরিবেশ রক্ষা কোনও একদিনের কর্মসূচি নয়। আজ যদি প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগায় ও সেটাকে বাঁচিয়ে রাখে, তবেই আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া সম্ভব হবে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির ব্যস্ত রাস্তায় বাবলুবাবুর এই নীরব প্রতিবাদ সভ্যতার দিকে ছুড়ে দিয়েছে এক কঠিন প্রশ্ন- উন্নয়নের মোহে আমরা কি ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্বের শিকড়ই কেটে ফেলছি? একজন সাধারণ মানুষের এই অসাধারণ জেদ আজ অনেককেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।





