East Bardhaman News: পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন ঘর ছেড়ে মাঠে খাওয়ার রীতি! 'মাঠপালুনি' ঘিরে উৎসবমুখর কোশিগ্রাম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট প্রথা

Last Updated:

East Bardhaman News: পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন আজও এক প্রাচীন প্রথা মেনে ঘর ছেড়ে মাঠে এসে খাওয়াদাওয়া করেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কোশিগ্রামের বাসিন্দারা। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি কাহিনীও।

+
মাঠপালুনি

মাঠপালুনি বা পোষলা উৎসব

কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরীঃ ঘরবাড়ি থাকতেও মাঠে এসে রান্না করে খাওয়াদাওয়া! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন আজও এক প্রাচীন প্রথা মেনে ঘর ছেড়ে মাঠে এসে খাওয়াদাওয়া করেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কোশিগ্রামের বাসিন্দারা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতির নাম ‘মাঠপালুনি’, অনেকের কাছে আবার ‘পোষলা উৎসব’।
হাঁড়িকুড়ি, হাতা-খুন্তি নিয়ে পরিবার, পরিজন সহ গ্রামের উত্তর দিকের খোলা মাঠে হাজির হন বাসিন্দারা। ছোট ছোট তাঁবু খাটিয়ে জমিয়ে রান্না চলে। কোথাও খিচুড়ি-বেগুন ভাজা, কোথাও নিরামিষ ভাত-ডাল। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বিষয়টিকে বনভোজনের আনন্দে উপভোগ করলেও গ্রামের প্রবীণদের কাছে এটি এক গভীর বিশ্বাস ও ইতিহাসের স্মারক।
আরও পড়ুনঃ শখের ফুলেই সেরার শিরোপা! মালদহের পুষ্প প্রদর্শনীতে চ্যাম্পিয়ন ফুলপ্রেমীরা, বাড়ি নিয়ে গেলেন ট্রফি-আর্থিক পুরস্কার
স্থানীয়দের কথায়, বহু বছর আগে কোশিগ্রামে ভয়াবহ কলেরার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। একের পর এক মানুষের মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। সেই সময় নদিয়া জেলার বল্লভপাড়া থেকে এক ফকির বাবা আসেন। তাঁর কাছে আশ্রয় নেন গ্রামবাসীরা। তখন তিনি নিদান দেন, পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন বাড়িতে রান্না নয়, গ্রামের উত্তরদিকের মাঠে সবাই একসঙ্গে রান্না করে খাবে। সেই বিশ্বাসের উপর ভর করেই আজও এই রীতি পালন করে চলেছেন কোশিগ্রামের মানুষ।
advertisement
advertisement
গ্রামবাসী তপন মণ্ডল বলেন, “বহু বছর ধরে এই রীতি পালিত হয়ে আসছে। এভাবেই প্রতিবছর আমরা এইদিনটা কাটাই।” তবে খাওয়া শুরু করার আগে একটি কলাপাতায় খাবার নিয়ে মাঠের এক কোণে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। তারপর ফকির বাবার পুজো দিয়ে শুরু হয় উৎসব। সারি সারি পাত পেড়ে একসঙ্গে বসে খাওয়া, মহাআনন্দে ভরে ওঠে গোটা মাঠ। কোশিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জমজমাট মেলাও বসে। বাউল গানের তালে তালে মাতেন গ্রামবাসীরা। পাশের যতীনপুর গ্রামের মানুষজনও এই উৎসবে শামিল হন। ধীরে ধীরে এই প্রথার জৌলুস ও পরিসর বাড়ছে বলেই মত স্থানীয়দের।
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গ্রামবাসী স্বপ্না পালের কথায়, “বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি। এদিন অনেক কিছু রান্না হয়। আত্মীয় স্বজন আসে, আবার পাশের গ্রামের পরিচিতদেরও ডাকা হয়। এইদিন আমাদের বাড়িতে রান্না করতে নেই।” যদিও যুক্তিবাদীদের একাংশ এই রীতিকে কুসংস্কার বলেই মনে করেন। তাঁদের মতে, খোলা মাঠে রান্না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, এটাকে বড়জোর পিকনিক বলা যেতে পারে। তবে কোশিগ্রামের বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন এটা বিশ্বাস, ধর্মীয় আবেগ ও গ্রাম সংস্কৃতির অংশ। এর সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও, কোশিগ্রামে আজও অটুট সেই বিশ্বাস- ঘর ছেড়ে মাঠে হেঁশেল আর একসঙ্গে খাওয়াতেই রয়েছে মুক্তির পথ!
Click here to add News18 as your preferred news source on Google.
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে  ক্লিক করুন এখানে ৷ 
view comments
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
East Bardhaman News: পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন ঘর ছেড়ে মাঠে খাওয়ার রীতি! 'মাঠপালুনি' ঘিরে উৎসবমুখর কোশিগ্রাম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট প্রথা
Next Article
advertisement
Purba Bardhaman News: সোনাদানার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল কম্বলও! গুসকরায় চুরির ঘটনায় গ্রেফতার কে? চোরের পরিচয় জেনে তাজ্জব পুলিশ
সোনাদানার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল কম্বলও! গুসকরায় চোরের পরিচয় জেনে তাজ্জব পুলিশ
  • গুসকরায় গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে সোনার গয়না, নগদ টাকার সঙ্গে লেপ কম্বলও নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হলেন শাসক দলের নেতা! এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়৷ 

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement