শিলিগুড়ির তথ্য কেন্দ্রের রামকিঙ্কর হলে ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এই আর্ট এক্সিবিটে অংশ নিয়েছেন মোট ৪৬ জন শিল্পী। পাঁচ বছরের শিশু থেকে কলেজের ছাত্রছাত্রী হয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলেও যারা শিল্পচর্চা ছাড়েননি— সকলের ছবিই এই প্রদর্শনীতে জায়গা পেয়েছে। শুধু আঁকা বা পেন্টিং নয়, এক্সিবিটে রয়েছে হ্যান্ডক্রাফটের নানা সামগ্রী, যেমন- হাতের কাজের থালা, গ্লাস, বাটি, ফুলদানি, ঘর সাজানোর জিনিস সহ একাধিক সৃজনশীল প্রোজেক্ট।
advertisement
বিগত কয়েক বছর ধরে এই উদ্যোগ যৌথভাবে চালিয়ে আসছে ক্যানভাস এ স্কুল অফ পেইন্টিং এবং ফিনিক্স আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন। এই বছর সেই যাত্রা পঞ্চম বর্ষে পৌঁছল। উদ্বোধনের দিন উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী বিপদ ভঞ্জন শিকদার, যাঁর উপস্থিতি এই এক্সিবিটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
ক্যানভাস এ স্কুল অফ পেইন্টিং-এর তরফে এবার অংশগ্রহণ করেছেন আয়ুশি দাস, বিদিতা সরকার, দেব নেতা পাল, লাবনী বাস্কে, একতা সিংহ, গৌরব জানা সহ মোট ২৫ জন। অন্যদিকে ফিনিক্স আর্ট অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছেন অভ্রদীপ সাহা, বিজয় সিংহ, ঋতিকা ঘোষ, মৃগাঙ্কদ দাস, মৃন্ময় ঘোষ সহ ২১ জন শিল্পী।
এই এক্সিবিটের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া বিজয় সিংহ। দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই নিয়মিতভাবে ‘রঙিন তারার দেশ’-এ অংশগ্রহণ করে আসছে সে। এই বছর একটি বিশেষ জলরঙের ছবির মাধ্যমে বিজয় অংশ নিয়েছে। ‘The Junction’ শিরোনামের ওই চিত্রকর্মটি সে ‘Water Colour on Paper’ মাধ্যমে এঁকেছে, মাপ ২৪ ইঞ্চি × ৩০ ইঞ্চি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিজয় জানায়, “এই এক্সিবিটে অংশ নিতে পারাটা আমার কাছে খুব আনন্দের। প্রতি বছর এখানে এলে মনে হয় আমি আরও কিছু শিখছি। নিজের মতো করে ভাবনাগুলো কাগজে রঙের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াটা ভীষণ ভালো লাগে। এখানে কেউ বিচার করে না, বরং সবাই উৎসাহ দেয়। এই পরিবেশটাই আমাকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।”
এই এক্সিবিটের ভাবনা ও উদ্দেশ্য নিয়ে ফিনিক্স আর্ট এন্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের অর্ঘ্য ভট্টাচার্যী জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মূল লক্ষ্য শুধু ছবি দেখানো নয়, বরং মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মনোবল বাড়ানো এবং শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। তাঁর কথায়, “রঙিন তারার দেশ আসলে একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সব বয়সের মানুষ নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে। শিল্পের মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে সমাজের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অন্যদিকে ক্যানভাস এ স্কুল অফ পেইন্টিং-এর প্রতিষ্ঠাতা ছন্দসী পাল বলেন, “আজকের দিনে বাচ্চারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই ডুবে যাচ্ছে যে মাঠে খেলা, সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা আঁকার মতো সৃজনশীল অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। সেই হারিয়ে যেতে বসা শৈশবকেই বাঁচিয়ে রাখার লড়াই থেকেই এই এক্সিবিট।” তিনি আরও জানান, শুরুতে অংশগ্রহণ কম থাকলেও ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এই বছর ৪৬ জনের অংশগ্রহণ সেটারই প্রমাণ। আগামী দিনে আরও বেশি মানুষকে এই সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করাই তাঁদের লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ‘রঙিন তারার দেশ’ তাই শুধু একটি আর্ট এক্সিবিট নয়- এটি আসলে মোবাইলের যুগে রং-তুলির ভাষায় শৈশব, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে ফিরিয়ে আনার এক নিরন্তর প্রয়াস।





