লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এক সময় এই জঙ্গল ছিল এক রাজার অধীনে। তাঁর আমলেই জঙ্গলের বুকে প্রায় ৫০ বিঘা এলাকা জুড়ে খনন করা হয় বিশাল এক পুকুর, যা আজও ‘দুধ পুকুর’ নামে পরিচিত। পুকুরের পাশে ছিল একটি প্রাচীন মন্দির, যেখানে নিয়মিত পুজো হত। আজ সেই মন্দিরের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত, পড়ে আছে কেবল কিছু ভগ্নাবশেষ, যা অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।
advertisement
‘সাপ নিকলা’ নামের পিছনেও জড়িয়ে আছে রহস্যময় লোককথা। শোনা যায়, রাজার স্বপ্নে এক দৈত্যাকার সাপের দেখা মিলেছিল, যে নাকি দুধ পুকুরে বাস করত। স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী রাজা প্রতিদিন পুকুরে দুধ ঢালার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রজাদের অসন্তোষে দুধের সঙ্গে জল মেশানো শুরু হতেই সেই বিশাল সাপ পুকুর ছেড়ে জঙ্গলের অন্য প্রান্তে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে জঙ্গলের নাম হয়ে ওঠে ‘সাপ নিকলা জঙ্গল’।
এক সময় এই জঙ্গলকে ঘিরে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়। সরকারি প্রকল্পে গড়ে ওঠে লোহার ফেন্সিং, বসার জায়গা, কংক্রিটের ঘর ও টিকিট কাউন্টার। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসতেন এখানে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রকল্প মাঝপথে থমকে যাওয়ায় অবকাঠামোগুলি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের দুই গ্রামের কিছু মানুষ অবৈধভাবে গাছ কাটছে, ফেন্সিং খুলে নিয়ে যাচ্ছে, এমনকি মূল্যবান ও ঔষধি গাছও চুরি হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে জমি সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দাবি করেছেন তাঁর পূর্বপুরুষের জমির অংশ এই ফরেস্টের অন্তর্ভুক্ত, যা নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন। ফলে বন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন- দু’টিই কার্যত থমকে আছে। সব মিলিয়ে, সুচিয়ানি সাপ নিকলা ফরেস্ট আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংরক্ষণ হলে এটি হতে পারে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির ভরকেন্দ্র, আর অবহেলা চললে হারিয়ে যাবে এক ঐতিহাসিক বনাঞ্চল। এখন প্রশ্ন একটাই, প্রশাসনের উদ্যোগে কি আদৌ রক্ষা পাবে এই লোককথার জঙ্গল?





