উত্তরবঙ্গের জলপূজা ‘তিস্তাবুড়ি’। অর্থাৎ, নদীকে রক্ষার আদি প্রার্থনা, সংস্কৃতির নিঃশব্দ সুর। চৈত্রের দহন কিংবা বৈশাখের কালবৈশাখী—উত্তরবঙ্গের আকাশে যখন প্রকৃতির রুদ্ররূপ, তখন রাজবংশী সমাজের ঘরে ঘরে এক অন্যরকম প্রস্তুতি। নদী যেন শুধুই জল নয়, জীবনের অংশ। সেই বিশ্বাস থেকেই বছরের বিশেষ দুই মাস—চৈত্র ও বৈশাখে—উত্তরবঙ্গের বহু জায়গায় পালিত হয় এক অনন্য ব্রত, নাম তার তিস্তাবুড়ি পুজো।
advertisement
আরও পড়ুন: ভারত-পাক তুমুল অশান্তির মাঝে রাজ্যে বড় পদক্ষেপ নিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী! জানলে আপনিও বাহবা জানাবেন
‘বুড়ি’ অর্থাৎ ঠাকুর। তবে এ পুজোয় নেই কোন মূর্তি বা প্রতিকৃতি। গঙ্গা পুজোর আঞ্চলিক রূপ বলা হলেও, এই উৎসবের মূল পরিধি নদী ও প্রকৃতি। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং থেকে উত্তর দিনাজপুর—উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ব্রতের প্রচলন। ব্রতটি মূলত পালন করেন মহিলারা, সঙ্গে থাকে কুমারী মেয়েরাও। উপবাস থেকে চাল-ডাল সংগ্রহ করে বিকেলে ‘হাট ঘোরানো’ হয় ঠাকুরকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নদীর ধারে কলার ভেলায় ভাসানো হয় দই, চিড়ে, কলা, গুড়—তিস্তাবুড়ির উদ্দেশ্যে। এরপর প্রসাদ খাওয়া, গান, গল্প—এক সরল অথচ গভীর মিলনমেলা। তিস্তাবুড়ি তাই কেবল একটি ব্রত নয়—উত্তরবঙ্গের নদীকেন্দ্রিক লোকবিশ্বাস, প্রাকৃতিক ভয়ের সঙ্গে সহাবস্থানের এক সংস্কৃতিচর্চা। নিঃশব্দে নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই জনপদের প্রার্থনা আজও বয়ে চলেছে উত্তরবঙ্গের রক্তে-শিরায়।
সুরজিৎ দে





