আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরেই বিদ্যার দেবী বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় মাতবে বাংলা। সেই উৎসবকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ততার চূড়ান্ত পর্যায়ে জলপাইগুড়ির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প কেন্দ্র পালপাড়া। পাড়া-পাড়ার পুজো থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন এখানকার শিল্পীরা। পালপাড়ার প্রতিটি গলিতেই চোখে পড়ছে কর্মযজ্ঞ। কোথাও নিখুঁত তুলির টানে প্রতিমার মুখে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর শান্ত, মায়াবী অভিব্যক্তি। আবার কোথাও ছোট ছোট মূর্তিতে মাটির প্রলেপ, শান ও শেষ মুহূর্তের ছোঁয়ায় ব্যস্ত কারিগরেরা। এককথায়, উৎসবের আগাম প্রস্তুতিতে এখন সরগরম গোটা পালপাড়া।
advertisement
মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর স্কুল ও পাড়ার পুজো মিলিয়ে ‘নটরাজ রূপের সরস্বতী’ প্রতিমার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি আধুনিক ভাবনায় তৈরি ‘জিরো ফিগার’ সরস্বতী প্রতিমার দিকেও আগ্রহ বাড়ছে। এছাড়াও বিশেষ নকশার বীণা, অলংকার ও সাজসজ্জার অর্ডারও ভালই রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে বাজারে এবার এগিয়ে নটরাজ রূপের প্রতিমাই।
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগর-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিমার পাশাপাশি জলপাইগুড়ির পালপাড়ার তৈরি মূর্তিগুলিও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সমান জনপ্রিয়।কয়েকদিন আগে টানা মেঘলা আবহাওয়া ও রোদের অভাবে প্রতিমা শুকানো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন শিল্পীরা। তবে বর্তমানে রোদের তাপ বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের মুখে। এখন পুরোদমে চলছে শান দেওয়া ও শেষ মুহূর্তের কাজ। সরস্বতী পুজোর আগে পালপাড়ার এই ব্যস্ততা শিল্পীদের জীবিকার গল্প যেমন বলে তেমনই উৎসবের আনন্দ ও প্রত্যাশাকেও যেন আরও এক ধাপ বাড়িয়ে তুলছে।





