বাপ দাদার হাত ধরেই হাতে খড়ি মাটির জিনিসপত্র তৈরির। আর এই মাটির জিনিস তৈরি করতে করতেই ঠিক ৮০টা বছর পার করছেন। শুধুমাত্র পরবগুলিতে নয়, সারাবছর জুড়েই কমবেশি মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে থাকেন। বয়সের ভারে তেমনভাবে কাজ করতে না পারলেও প্রতিদিনই তিনি চাকা ঘুরিয়ে জিনিসপত্র দীর্ঘ নিপুণ হাতের তুলির টানে রঙিন করে তোলেন মাটির জিনিসপত্র। তবে বর্তমানে অনেকেই ছাড়ছেন এই পেশা। আর যারা এখনও টিকে আছেন দারিদ্রতা তাদের নিত্য সঙ্গী।
advertisement
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প, এখন আর কেউ চিনতে পারেন না এই জায়গাকে!
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এবিষয়ে বৃদ্ধ মোহনলাল বাবু জানান, “প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মত মাটির তৈরি এসব জিনিসপত্রের চাহিদা নেই। জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার এই পেশাকে এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। আগে একটি ফুলের টব বিক্রি করতেন ৩০-৩৫ টাকা। অথচ এখন মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরও এই টব বিক্রি করতে হয় মাত্র ১০ টাকায়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন আমাদের চলে কীভাবে, কেউ কোন খোঁজ খবরও রাখে না।”
বালুরঘাট শহর লাগোয়া মাহিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত মোহনলাল বাবু বসবাস করে আসছেন। বাপ দাদার শেখানো পথ ধরে আজও হেঁটে চলেছেন। তবে তাঁর মুখে ভিন্ন ধরনের সুর। কেননা বর্তমানে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা তলানিতে ঠেকে যাওয়ার ফলে আগামী প্রজন্ম এই কাজে তেমনভাবে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে কি আগামী দিনে পূর্বপুরুষদের কাজের ইতি টানতে হবে এই শঙ্কা দিনরাত তাড়া করে বৃদ্ধ মোহনলাল বাবুর।
সুস্মিতা গোস্বামী





