‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ হিসাবে এক বর্ষ ব্যাপী উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে কেন্দ্র৷ ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু কর্তৃক গানটির প্রথম দু’টি স্তবক বেছে নেওয়া নিয়েও কেন্দ্র-কংগ্রেস তর্ক বাঁধে সংসদে৷ এর মাঝেই এল নতুন গাইডলাইন৷
advertisement
কেন্দ্র কী কী পরিবর্তন আনল?
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠান, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বা বাজাতে হবে৷ তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হন, এক্ষেত্রে, ‘বন্দে মাতরম’-এর সব ক’টি অর্থাৎ, ৬টি স্তবকই গাওয়া হবে৷ যে চারটি স্তবক কংগ্রেসের তরফে সরকারি ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও এখন থেকে সমস্ত সরকার অনুষ্ঠান এবং স্কুলে গাওয়াঅথবা বাজানো হবে৷
কেন কেন্দ্র এখন এই নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করল?
এর আগে, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট সরকারি নীতি এতদিন ছিল না৷ যেমনটা, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র ক্ষেত্রে রয়েছে৷ এই সিদ্ধান্ত জাতীয় গানকে সুস্পষ্ট প্রশাসিক সম্মাননীয় অবস্থান দেওয়ার জন্যেই নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র সূত্রের খবর৷ সম্প্রতি, এই গানের ঐতিহাসিক দিক নিয়ে বিতর্ক হয় সংসদে৷ মনে করা হচ্ছে, সেই আলোচনা বা বিতর্কেরও ফসল এই গাইডলাইন৷
গত শীতকালীন অধিবেশনে, ‘বন্দে মাতরম’ সার্ধশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ সেই সময়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং কংগ্রেসের মধ্যে এই গানের ‘স্তবক বাদ যাওয়া’ নিয়ে আলোচনা এবং বিতর্ক হয়েছিল৷
তাহলে, নতুন নিয়ম কী বলছে?
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী,
১. ‘বন্দে মাতরম’-এর সব ক’টি অর্থাৎ, ছ’টি স্তবকই এবার থেকে গাওয়া হবে৷ (যা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)
২. যখন কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কথা থাকবে, সেখানে জাতীয় গান, জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাইতে হবে৷
৩. ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানোর সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে৷
৪. জাতীয় প্রতীক হিসাবে গুরুত্ব দিতে স্কুলের অ্যাসেম্বলি সেশনে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দেশের প্রত্যেক স্কুলকে৷
৫. রাজ্য, সাধারণ নাগরিকের যে কোনও পুরস্কার প্রদান, পতাকা উত্তোলন এবং রাষ্ট্রপতির আগমন এবং গমনের সময়কালে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বা বাজাতে হবে৷
কখন এবং কোথায় এই গাইডলাইন প্রযোজ্য হবে?
নির্দেশিকার পর থেকেই এই গাইডলাই প্রযোজ্য হবে৷ তবে সিনেমা হ’ল, অথবা সিনেমা বা তথ্যচিত্রের অংশ হলে তখন শ্রোতাদের উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক থাকবে না৷
