প্রসঙ্গত, এই মাসের শুরুতে জেহানাবাদ জেলার ১৮ বছর বয়সি ওই ছাত্রীকে পাটনার চিত্রগুপ্ত নগরের শম্ভু গার্লস হোস্টেলের নিজের ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। নির্যাতিতা মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-এর প্রস্তুতির জন্য হোস্টেলে থাকতেন৷ কয়েক দিন কোমায় থাকার পর ১১ জানুয়ারি একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ছাত্রীটির পরিবার দাবি করে যে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল এবং তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। মামলাটি বর্তমানে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) তদন্ত করছে।
advertisement
এসএসপি অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় যে পোশাকটি ছাত্রীটি পরেছিলেন, সেই পোশাকের ফরেনসিক পরীক্ষায় সিমেনের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পরিবার ১০ জানুয়ারি এই পোশাকগুলো পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং পুলিশ সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এখন SIT বীর্য থেকে ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করবে এবং তা গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।” পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তার গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরে নখের আঁচড়ের দাগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রীর মৃত্যুর পর পাটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যার জেরে পুলিশ হোস্টেলের মালিককে গ্রেফতার করে। যদিও প্রথমদিকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন যে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন এবং টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ অন্যদিকে পরিবার প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও পুলিশ জানায়, চিকিৎসা রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাটনা পুলিশ ১৩ জানুয়ারির এক বিবৃতিতে জানায়, “চিকিৎসকেরা যৌন নির্যাতনের কোনও চিহ্ন পাননি এবং জানান যে সে প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল ও টাইফয়েডে ভুগছিল।”
এদিকে, AIIMS-পাটনার পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড শনিবার জানিয়েছে যে SIT-এর কাছ থেকে তারা এখনও সব গুরুত্বপূর্ণ নথি পায়নি, যদিও তারা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. বিনয় কুমার বলেন, “আমরা এখনও SIT-এর কাছ থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি পাইনি, তাই কোনও মতামত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। এখন পর্যন্ত যে নথিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথেষ্ট নয়। আমরা আরও নথির অপেক্ষায় আছি। SIT তদন্ত করছে এবং মেডিক্যাল বোর্ড নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু করেছে।”
