Manasa Puja in Nabagram Murshidabad: মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা সাপ উদ্ধারের পর তা কখনোই মেরে ফেলেন না। বরং সাপকে উদ্ধার করে তুলে দেন বন দফতরের হাতে। সঙ্গে আরাধনা করে থাকেন দেবী মনসার।
#নবগ্রামঃ মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা সাপ উদ্ধারের পর তা কখনওই মেরে ফেলেন না। বরং সাপকে উদ্ধার করে তুলে দেন বন দফতরের হাতে। আরাধনা করে থাকেন দেবী মনসার। প্রায় ৫১ বছর ধরে চলে আসছে মনসা পুজো। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামে ব্লকের বিলোল গ্রামের আরাধ্যা দেবী মা মনসার পুজো হয়ে থাকে। গ্রাম বাংলায় অতি প্রচলিত এই পুজো জ্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তিতে তিথি অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে হয়ে থাকে। সকাল থেকেই ভেসে আসছে ঢাকের আওয়াজ তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে কাঁসর ঘন্টার আওয়াজ। মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে ও শাঁখ বাজিয়ে বরণ করে নেন মাকে।
অনেকের মতে, সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে মাটির সরায় দুধ-কলা দিয়ে দেবী মনসাকে পুজো করা হয়। সারাদিন উপোসের পর সাবু-দুধ-কলা দিয়ে মনসার পুজো সম্পন্ন করে উপবাস ভাঙেন মহিলারা। পুরাণ অনুসারে, মনসা হলেন শিবের স্বীকৃতকন্যা ও জরৎকারুর পত্নী। জরৎকারু মনসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মা চণ্ডীও (শিবের স্ত্রী পার্বতী) তাঁকে ঘৃণা করতেন কিন্তু পরবর্তীতে মাতা চণ্ডী মনসাকে নিজের মেয়ের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কোনও কোনও ধর্মগ্রন্থে আছে, শিব নয়, ঋষি কাশ্যপ হলেন মনসার পিতা। মনসাকে ভক্তবৎসল বলে বর্ণনা করা হলেও, যিনি তাঁর পূজা করতে অস্বীকার করেন, তাঁর প্রতি তিনি নির্দয় হয়ে থাকেন।
advertisement
তবে গ্রামের বাসিন্দারা মনসা পূজোতে মেতে ওঠেন। পূজো কে ঘিরে গ্রামীণ উৎসব লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন রীতি ও নিয়ম অনুযায়ী চলে মনসা পূজো। পূজো দিতে ভীড় জমান বহু দুর দুরন্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষজন।