বহু শতাব্দী ধরে ক্ষীরপাইয়ের বাবরসা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। মুচমুচে গঠন ও অনন্য স্বাদের এই মিষ্টির প্রধান উপকরণ দুধ, ময়দা ও চিনি। প্রথমে নির্দিষ্ট ছাঁচে ময়দার মিশ্রণ ফোঁটা ফোঁটা করে গরম ঘিয়ের মধ্যে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজুবাদামের গুঁড়ো মেশানো হয় স্বাদ বাড়াতে। ভাজার পর হালকা চিনির রসে ডুবিয়ে পরিবেশন করা হয় বাবরসা। প্রতিটি বাবরসার দাম গড়ে ১০ টাকা। একবার খেলে স্বাদ ভুলবেন না।
advertisement
এই মিষ্টির নাম ও উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে একাধিক জনশ্রুতি। ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বর্গি আক্রমণের ভয়াল অধ্যায়ে ক্ষীরপাইও আতঙ্কের মুখে পড়ে। ১৭৪৮ থেকে ১৭৫৩ সালের মধ্যে বর্গিরা বর্ধমানের দিক থেকে ক্ষীরপাইয়ের দিকে অগ্রসর হলে, তৎকালীন ইংরেজ অফিসার এডওয়ার্ডস বাবরস ক্ষীরপাই রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। বর্গিদের প্রতিহত করা হয়। সেই সময় পরান আটা নামে এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী কৃতজ্ঞতা স্বরূপ দুধ, ময়দা, ঘি ও মধু দিয়ে এক নতুন মিষ্টি তৈরি করে এডওয়ার্ডস বাবরসকে উপহার দেন। তাঁর নাম থেকেই সেই মিষ্টির নামকরণ হয় বাবরসা।
অন্য একটি মত অনুযায়ী, মোঘল সম্রাট বাবরকে সন্তুষ্ট করতে এক মিষ্টান্নকার বাবরের সেনাপতির মাধ্যমে এই বিশেষ মিষ্টি পাঠান। বাবর সেই মিষ্টির প্রশংসা করলে তাঁর নাম থেকেই বাবরসা নামের উৎপত্তি।
ইতিহাস ও জনশ্রুতির মিশেলে বাবরসা বরাবর ক্ষীরপাইয়ের গর্ব। বর্তমানে এই মিষ্টি জেলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিচ্ছে। ক্ষীরপাই পৌর এলাকার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য আগলে রেখেছেন। ধীরে ধীরে বাবরসার সুখ্যাতি আরও বেড়েছে। শীঘ্রই জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে ক্ষীরপাইয়ের এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।





