ধান্যকুড়িয়া গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে গায়েন জমিদারদের বিশাল রাজবাড়ি এবং তার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা গায়েন গার্ডেন। একসময় এই বাগান ছিল জমিদার পরিবারের অবসরযাপন, অতিথি আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের অন্যতম কেন্দ্র। সুপরিকল্পিত এই বাগানে নানা ধরনের গাছপালা, ফুল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহার ছিল। ইতিহাস বলছে, গায়েন জমিদারদের মূল ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি ছিল পাটের ব্যবসা।
advertisement
আরও পড়ুনVideo: মর্মান্তিক! হরিশ রাণার স্বচ্ছামৃত্যুর শেষ ভিডিও এল সামনে, দেখলে আপনার চোখে জল আসবে
সেই ব্যবসার সূত্রেই তাঁদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং ধান্যকুড়িয়া ধীরে ধীরে এক সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়। ব্যবসায়িক সূত্রে সাউ ও বল্লভ পরিবারের সঙ্গেও গায়েনদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গায়েনদের রাজবাড়ির স্থাপত্যেও সেই সময়ের বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এখানে দেখা যায় ইউরোপীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা অনন্য স্থাপত্যশৈলী। ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের কারুকাজ, প্রশস্ত বারান্দা, উঁচু খিলান ও নান্দনিক নকশা রাজবাড়িটিকে এক আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
বর্তমানে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। তবুও অতীতের সেই জমিদারি ঐশ্বর্য আর ইতিহাসের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে গায়েন গার্ডেন ও গায়েনদের রাজবাড়ি। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি কেবল একটি পুরনো স্থাপনা নয়, বরং ধান্যকুড়িয়ার গৌরবময় অতীতের নীরব সাক্ষী। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং গায়েন গার্ডেনের ঐতিহ্য মিলিয়ে ধান্যকুড়িয়া আজও ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
জুলফিকার মোল্যা





