এই পিঠে ভাজার পদ্ধতি অত্যন্ত নিয়মবদ্ধ। প্রথমে মাটির খোলায় ধীরে ধীরে ঘি গরম করা হয়, তারপর নির্দিষ্ট মন্ত্রোচ্চারণের পর গুড় আর চালের মিশ্রণ হাতে নিয়ে ফুটন্ত ঘিয়ের মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের অসাবধানতায় মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ব্রতী পুরুষেরা কোনও কষ্টের বহিঃপ্রকাশ করেন না। বিশ্বাস অনুযায়ী, যত নিঃশব্দে ও ধৈর্যের সঙ্গে এই পিঠে ভাজা সম্পন্ন হবে, ততই ব্রত সফল হবে।
advertisement
আরও পড়ুন Maa Canteen : মা ক্যান্টিনে চালু হচ্ছে স্পেশাল মেনু, নয়া উদ্যোগ পুরুলিয়া পৌরসভার!
এই সময় গ্রামের মহিলারা কোনওভাবেই পিঠে ভাজার কাজে অংশ নেন না। তাঁরা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ধামসা-মাদলের তালে তালে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে ব্রতী পুরুষদের উৎসাহ জোগান। ঢোলের তালে তালে চলা এই সম্মান জানানোর পর্ব যেন যন্ত্রণার মুহূর্তকে উৎসবে রূপ দেয়। ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়েও যাঁরা অবিচল থাকেন, তাঁদের এই সহনশীলতাই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে উৎসবের মূল আকর্ষণ।
পিঠে ভাজা শেষ হলে সেই গুড় পিঠে প্রসাদ হিসেবে নিবেদন ও বিতরণ করা হয়। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই আচার আজ আর শুধু গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা এক বিশাল মেলার রূপ নিয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই বিরল পদ্ধতিতে হাতে করে পিঠে ভাজা দেখতে। আধুনিক রান্নাঘরের সব নিরাপত্তা ও আরামকে অগ্রাহ্য করে, শুধুমাত্র বিশ্বাস আর ব্রতের শক্তিতে ফুটন্ত ঘিয়ের মধ্যে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজার এই রীতি নিঃসন্দেহে আদিবাসী সংস্কৃতির এক অনন্য ও বিস্ময়কর অধ্যায়।
নীলাঞ্জন বন্দোপাধ্যায়





