গৌড়ের প্রাচীন রাজপ্রাসাদ থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এই জাহাজ ঘাট একসময় ছিল জলপথে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আজ তা নিঃশব্দে অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে। এখানে দাঁড়ালে যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সময়ের দৃশ্য। রাজকীয় নৌযান, সুলতানি শাসকদের যাতায়াত, আর ব্যস্ত নদীপথের চলাচল। প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর ধরে গৌড়ের রাজপ্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই ঘাট। ইতিহাসবিদদের মতে, সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসন কালেই নির্মিত হয়েছিল এই জাহাজ ঘাট। সে সময় গঙ্গার শাখা ভাগীরথী নদী রাজপ্রাসাদের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হত। নদীপথই ছিল তখন যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম মাধ্যম।
advertisement
ইতিহাস গবেষক এম আতাউল্লাহ জানান, “গৌড় নগরীর সঙ্গে নদীপথের সংযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জাহাজ ঘাট শুধু রাজকীয় যাতায়াতের জন্যই নয়, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ভাগীরথী নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘাটটির ব্যবহার কমে যায়, কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে এটি আজও অমলিন।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আজকের দিনে যখন আধুনিক সেতু ও মহাসড়ক মানুষের যাতায়াতকে সহজ করেছে। তখন গৌড়ের এই জাহাজ ঘাট মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ জলপথ নির্ভর সভ্যতার কথা। ইতিহাসের সেই জলছাপ আজও স্পষ্ট গৌড়ের বুকে, নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন জাহাজ ঘাটে।





