আরও পড়ুনঃ খালিদা জিয়ার পুত্র তারিক রহমানের জয়, বাংলাদেশে ৭৭টি আসনে এগিয়ে বিএনপি
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের আবুজহাটি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলীনগ্রাম হল একটি প্রাচীন জনপদ। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন মালাধর বসু। তিনি ছিলেন একাধারে কবি ও পরম ভক্ত। তৎকালীন গৌড়ের পাঠান সুলতানের রাজদরবারে সঙ্গে তিনি সংযুক্ত ছিলেন।তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে নবাব দরবার থেকে তাকে গুনরাজ খাঁ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ব্যাসদেবের রচিত সংস্কৃত ভাগবত পূরণের দশম স্কন্ধে যেখানে কৃষ্ণের জন্ম থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত লীলা কাহিনী বর্ণিত আছে তিনি তা বাংলা অনুবাদ করেছিলেন। এবং তার এই অনুবাদের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলার মানুষের কাছে কৃষ্ণ কাহিনীকে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তার পুত্র সত্যরাজ খাঁ ও পৌত্র রমানন্দ বসুর প্রচেষ্টায় কুলীনগ্রাম একটি অন্যতম বৈষ্ণব সংস্কৃতির কেন্দ্র রূপে গড়ে উঠেছিল।রমানন্দ বসু ছিলেন চৈতন্যদেবের খুবই অন্তরঙ্গ ও অন্যতম পার্ষদ । বসু পরিবারের আমন্ত্রণেই মূলত চৈতন্যদেব কুলীনগ্রামে এসে ছিলেন।
advertisement
চৈতন্যদেবের নির্দেশই একসময় কুলীন গ্রাম থেকে রেশমের পট্টডোরি রথের সময় পুরীতে নিয়ে যাওয়া হত। বসু পরিবারের হাত ধরেই কুলীন গ্রামে গড়ে ওঠে জগন্নাথ দেবের মন্দিরেও। আর শুধু জগন্নাথ দেবের মন্দিরে নয়, কুলীন গ্রামে আরও আনেক দেব দেবীর মূর্তি ও মন্দির রয়েছে। প্রতিবছর রথযাত্রা এবং জন্মাষ্টমী তিথিতে ভক্তের ঢল নামে কুলীন গ্রামে। ওই দিন গুলিতে এই রাজ্য ছাড়াও দেশ ও বিদেশের বহু ভক্ত কুলীন গ্রামে সমবেত হন।





