গ্রামবাংলার নিঃশব্দ পরিসরে এমন মানুষদের অবদান প্রায়শই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু তাঁদের কাজ সমাজকে ভিতর থেকে শক্ত করে তোলে। ১৯৯১ সালে পঁচেটগড় হাইস্কুলে অর্গানাইজার টিচার হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন নিমাই অধিকারী। স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক ছিলেন। সেই সময়ই খুব কাছ থেকে দেখেছেন পড়ুয়াদের আর্থিক দুরবস্থা। অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছিল। সেই দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, স্কুলের বাইরে বাড়িতেই বিনামূল্যে টিউশন পড়াবেন। শুরু হয় তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্র নিয়ে শুরু হয় পড়ানো। ধীরে ধীরে সংখ্যাটা বাড়তে থাকে। ইতিহাসের পাশাপাশি তিনি কলা বিভাগের প্রায় সব বিষয় পড়ানোর চেষ্টা করতেন। ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোই হয়ে ওঠে তাঁর নেশা।
advertisement
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিমাই অধিকারী এই উদ্যোগ গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকেও ছাত্ররা আসতে শুরু করে। করোনা অতিমারির সময় যখন শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল, তখনও থেমে থাকেনি তাঁর কাজ, বরং আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন তিনি। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই পড়ানো চালু রাখেন। শুরু করেন অনলাইন ক্লাস। অনেক পড়ুয়াই প্রথমবার অনলাইনে পড়ার সুযোগ পায় তাঁর হাত ধরেই।
আজ তিনি অবসরপ্রাপ্ত। বয়সের কারণে শারীরিক সক্ষমতা আগের মতো নেই। তবুও পড়ানো বন্ধ করেননি। এখনও বিনা পয়সায় টিউশন পড়িয়ে চলেছেন। তাঁর দুই ছেলে আজ প্রতিষ্ঠিত। তাই আর্থিক অনটনের মুখে পড়তে হয় না। কিন্তু অর্থ উপার্জন কখনওই তার লক্ষ্য ছিল না। লক্ষ্য একটাই—এলাকার ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা।





